ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালাতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৮, ০৮:৪২
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলায় হামলা চালানোর সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। গত বছরের আগস্ট মাসে শীর্ষ পর্যায়ের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নিয়ে কথা বলেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপি’র।
 
খবরে বলা হয়, গত বছর আগস্টে ট্রাম্প ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনিজুয়েলার জন্য আমাদের অনেক বিকল্প রয়েছে। প্রয়োজনে সামরিক বিকল্পও বিবেচনা করা হবে। কিন্তু ট্রাম্প সম্ভাব্য মার্কিন দখল অভিযানের বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে যা বলেছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
 
জনসম্মুখে সামরিক অভিযানের বিষয়টি আনার আগের দিন ওভাল অফিসের বৈঠকে শীর্ষ কর্মকর্তাদের চমকে দেন ট্রাম্প। তিনি তাদের কাছে জানতে চান, ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ওই অঞ্চলের জন্য হুমকি হওয়ার পরও কেন নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে না!
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এপি জানায়, বৈঠকে উপস্থিতরা ট্রাম্পের এই পরামর্শ শুনে হতভম্ব হয়ে যান। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্ট এইচআর ম্যাকমাস্টার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।
 
প্রশাসনের কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তাব থেকে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তারা বলেন, এধরনের সামরিক অভিযানে লাতিন আমেরিকার মিত্রদের বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এসব মিত্ররা মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপকে সমর্থন করেছে।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকের এসব আলোচনা ট্রাম্পকে এই মনোভাব থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বৈঠকের পরদিন নিউ জার্সিতে গল্ফ মাঠে টিলারসনকে ট্রাম্প বলেন, ভেনিজুয়েলার জন্য আমাদের অনেক বিকল্প আছে।
 
হোয়াইট হাউস পরে জানায়, তারা মাদুরোর একটি ফোন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো ট্রাম্পের হুমকিকে পাগলামি ও একেবারে চরমপন্থি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
 
ইত্তেফাক/ জেআর