বাগমারায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৮, ১৯:৪৩
রাজশাহীর বাগমারায় স্বামীর বিরুদ্ধে শারমিন আক্তার শিল্পী ওরফে নাহার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূ শারমিন আক্তার শিল্পী ওরফে নাহার উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বানাইপুর বিঘপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে স্বামী রফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
 
এলাকার লোকজন ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের সুজন পালশা গ্রামের আব্দুস সামাদের কন্যা শারমিন প্রায় ১২ বছর পূর্বে একই ইউনিয়নের বানাইপুর বিঘপাড়া গ্রামের আব্বাস আলীর মাদকাসক্ত ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত রফিকুল শারমিনেকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। নির্যাতনের এক পর্যায়ে স্ত্রী শারমিনের গর্ভে একটি পুত্র সন্তান জম্মলাভ করে। শিশু সন্তানটির মুখের দিকে তাকিয়ে স্ত্রী শারমিন আক্তার স্বামী রফিকুল ইসলামের সকল নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর সংসার করতেন। 
 
গত রবিবার  গভীর রাতের কোন এক সময়ে নেশাখোর স্বামী রফিকুল ইসলাম স্ত্রী শারমিন আক্তার নাহারকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সকালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারে। বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে গৃহবধু শারমিন আক্তারের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে শারমিন আক্তারের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশটি দেখে তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
 
বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার লোকজনকে অবহিত করে শারমিনের পরিবারের সদস্যরা। এলাকার লোকজন বিষয়টি বাগমারা থানার পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং লাশটি উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
 
নিহত শারমিনের বাবার পরিবারের লোকজনের দাবি জামাতা রফিকুল ইসলাম তাদের মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। তারা এই নির্মম হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
 
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। তিনি আরো জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু