বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি স্কুলছাত্রের চোখ অন্ধ হওয়ার তদন্ত শুরু

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১৯:১১
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের রাবার বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত স্কুলছাত্র রাসেলের পক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বাদল চন্দ্র হালদার। তিনি শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ তদন্ত করেন। এ দিকে আহত রাসেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবারকে আশ্বাস প্রদান করেছেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই-কমিশন। 
 
এর পূর্বে একাধিকবার দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাতারী  নোয়াকালীটারী গ্রামের দিনমজুর আব্দুল হানিফের ছেলে স্কুলছাত্র রাসেল মিয়া (১৪) বিএসএফের ছোঁড়া রাবার বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হলে খবর প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ৭ মে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপ-পরিচালক সুস্মিতা পাইক কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগ তদন্তের আবেদন করেন।
 
তদন্তকালে আহত স্কুল রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরাসহ উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, নাওডাঙ্গার সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গফুর, লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন গোরকমন্ডপ ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আব্দুল কুদ্দুস, বালারহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলওয়ার হোসেন। 
 
এ ব্যাপারে আহত রাসেলের বড়ভাই রুবেল ইসলাম জানান, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই-কমিশনের ফাস্ট জেনারেল সেক্রেটারী শ্রী রাজেশ চন্দ্র রায় তার অফিসে ঢেকে নিয়ে আহত রাসেলের উন্নত চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবে ভারতীয় হাই-কমিশন বলে জানায়। এখন তারা ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 
 
উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল বিকালে ফুলবাড়ী উপজেলার গোড়কমন্ডল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩০/৮ এর পাশে বাংলাদেশের ২০ গজ অভ্যন্তরে রাসেল বন্ধুদের সঙ্গে গরুর ঘাস কাটতে গেলে ৩৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্য তাদেরকে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
 
এতে অন্যরা অক্ষত থাকলেও স্কুলছাত্র রাসেলের মুখমন্ডলে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু, বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশেষে দীর্ঘ একমাস চিকিৎসা শেষে গত ১ লা জুন আহত রাসেল তার ডান চোখটি অন্ধ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
 
ইত্তেফাক/নূহু