টেকনাফে পাহাড়ি ছড়া হতে ২জনের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ২০:১২
টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা বস্তি সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে ২জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।নিহত দুজন হলেন, রহুম আবুল কাশেমের পুত্র শামসুল হুদা (২৮) এবং এবং লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকের ২৫৪ নং রোমের বাসিন্দা রশিদ আহমদ প্রকাশ লাল বুইজ্জার পুত্র রহিমুল্লাহ (২৩)।
 
জানা যায়, ১৩ জুলাই সকালে একদল রোহিঙ্গা উপজেলার হ্নীলাস্থ লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ের পশ্চিম ছড়ায় দুটি ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে লোকজনকে খবর দেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই পুরো উপজেলায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ভাসমান লাশের খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পোস্ট মর্টেমের জন্য লাশ ২টি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
 
এই ব্যাপারে নিহত শামসুল হুদার মেঝ ভাই নুরুল হুদা মেম্বার বলেন, ২০০৪ সালের ২৭ জুন আমার বাবা কাশেম হত্যাকারীরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের জন্য ভাড়াটে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের চক্রান্ত করে আসছে। এছাড়া আমি কাশেম হত্যা মামলার বাদী, নিহত শামসুল হুদা আমার ভাই নুরুল কবিরকে ছিনতাই মামলার বাদী ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মৃত আবু বক্কর মেম্বারের পুত্র রাসেল, আবছার কামাল ও মর্জিনা মেম্বার, আলীখালীর জামাল মেম্বারের স্ত্রী খুরশিদা, পুত্র শাহ আজম, মৃত মকবুল আহমদের পুত্র নুর আলম ডাকাত ও রশিদ মিয়ার পুত্র হারুনসহ একটি শক্তিশালী চক্র মিলে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই নৃশংস ঘটনার আশ্রয় নিয়েছে। এই ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে। 
 
অভিযুক্ত হারুন বলেন, শামসুল হুদার মত লোককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় আমি চরমভাবে মর্মাহত। এখন আমার সাথে মর্জিনা মেম্বারের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। আর টাকা পাওয়ার জের ধরে জামাল মেম্বারের ছেলেদের সঙ্গে আমার বাঘে-মহিষে সম্পর্ক চলে আসছে। আমি এই জাতীয় ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত নয়।
 
এই ব্যাপারে মর্জিনা আক্তার ছিদ্দিকী বলেন, তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধীদের কারণে কোন ঘটনা ঘটলে আমাদের দায়ি করে। তবে আমি লোকজন মারফতে জানতে পেরেছি আলীখালীর জামাল মেম্বারের পুত্র আজমের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটছে। তবে রাসেলের বিষয়ে আমরা ভালো-মন্দ কিছুই জানি না।
 
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার বলেন, সম্প্রতি অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার এবং খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মানুষ আতংকিত হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। 
 
টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এসএম আতিক উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থল হতে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এইটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ দুটি পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
 
এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় অপরাধীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বিশেষ কিলিং স্কোয়াড মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ভাড়াটে খুনীসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অপকর্ম করে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোয় পাহাড়ি জনপদ নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু