বালুচরে কাশের ৩ কিলোমিটার রাস্তা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৮, ১৫:০৫
রাজিবপুর উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল কোদালকাটি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে বসবাসরত মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের কোন রাস্তা-ঘাট নেই। এলাকাবাসী ধুধু বালুচর পায়ে হেঁটে উপজেলা সদরে যাতয়াত করেন।
 
গবাদিপশু ও আবাদি ফসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয় গরু ও ঘোড়ার গাড়ি। যোগাযোগ ব্যবস্থার ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শিক্ষক আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে ইউনিয়নবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে কাশ দিয়ে ৩কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেছেন।
 
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কোদালকাটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলে মানুষের চলাচলের জন্য শঙ্করমাধবপুর আ. সালাম বাড়ি হতে রাজিবপুর খেওয়া ঘাট পর্যন্ত ধুধু বালুচরে ৩কিলোমিটার কাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও চরসাজাই কোদালকাটি বাজার, কোদালকাটি হলহলিয়া নদীর উপর, সাজাই তাহের মেম্বারের বাড়ির উত্তর পাশে, চরসাজাই মণ্ডল পাড়া, রাজিবপুর টাঙ্গাইলাপাড়া, পাখিউড়া বাজারের পশ্চিম পাশে খালের উপরসহ ৮টি বাঁশের সাঁকো এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করেছেন।
 
কোদালকাটি গ্রামের আব্দুল বারী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সাত্তার, জয়নাল আবদীন বলেন, ‘চরাঞ্চলে বালু মাটি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করলে গাড়ি-ঘোড়া নিয়ে যাতয়াত করা যায় না। তাই আমিনুর ভাই আমাগো সাথে নিয়ে কাশের রাস্তা তৈরি করেছেন। আমরা এহন মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ভ্যানগাড়ি দিয়া নিজেরা যাতয়াতসহ সহজে মালামাল আনা-নেওয়া করি।’
 
আমিনুর রহমান বলেন, নদী ভাঙ্গন, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা চিন্তা করে ৪বছর থেকে এলাকার মানুষদের সঙ্গে নিয়ে আমি স্বেচ্ছাশ্রমে অস্থায়ী কাজগুলো করে আসছি। আমার ডাকে সাড়া দিয়ে কোদালকাটি ইউনিয়নবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে এ কাজগুলো করে। আমি একজন শিক্ষক হিসাবে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সঙ্গী হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি