আড়াইহাজারে হাজতে থাকা স্বামীকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মুন্নী আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধুকে অপহরণের পর হত্যা করে মেঘনায় ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের সতীন রেহেনা বেগমের স্বজনরা মিলে এ কাজ করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে গেফতারকৃত সফর আলী ও স্বর্না নামে অপহরণ মামলার দুই আসামি। সোমবার সফর আলী ও স্বর্নাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজরি করা হলে সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিক ইমামের আদালতে সফর আলী এবং মাহমুদুল মোহসীন এর আদালতে স্বর্না স্বীকারোক্তি দেয় বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এস আই) রফিউদৌলা জানান।
পুলিশ জানায়, উপজেলার ব্রাহ্মন্দী শ্রীনগর গ্রামের অনোয়ার হোসেন একই গ্রামের তাইজুদ্দিনের মেয়ে রেহেনা বেগমকে তিন বছর আগে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় দেড় বছরের মাথায় স্ত্রী রেহেনা বেগম পাঁচ মাসের কন্যা সন্তান এবং স্বামীকে রেখে সৌদী আরব চলে যায়। পরে আনোয়ারের সঙ্গে সংসার করবে না বলে রেহেনা তাকে সাফ জানিয়ে উকিল নোটিশসহ তালাকের কাগজ পাঠায়।
আনোয়ার গত তিন মাস আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজলোর আখধনা গ্রামের বায়েছ বেপারীর মেয়ে মুন্নী বেগম (২২) নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে। রেহেনা বিদেশ থেকে এসে আনোয়ারের সঙ্গে মুন্নীর বিয়ের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। মুন্নীকে মেরে পথ পরিষ্কার করতে চায় রেহেনা ও তার পরিবার। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুযোগ খুঁজতে থাকে রেহেনার পরিবার।
এদিকে আনোয়ারকে জামিন করাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নী বেগম। এ সুযোগে অনোয়ারের ভাগ্নী জামাতা একই গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে সফর আলী (৩৫) রেহেনার সঙ্গে যোগসাজস করে অনোয়ারকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে মুন্নীকে একটি স্থানে দেখা করার কথা বলে।
গত ৯ জুন সকাল ১০ টায় সফর আলীর কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মুন্নী। এরপর আনোয়ারের পরিবার মুন্নী এবং সফর আলীকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে তাদের সন্ধান পায়নি এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটো ও বন্ধ পায়।
এ ব্যাপারে মুন্নীর ননদ সহিতুন বেগম বাদী হয়ে আনোয়ারের প্রথম স্ত্রী রেহেনা বেগমকে ১নং আসামি করে আড়াইহাজার থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ ঘটনায় করিমন, রেশমা, নুরজাহান, কামাল হোসেন ও সর্বশেষ কুমিল্লার হোমনার মৌশারচর এলাকা থেকে প্রধান আসামি সফর আলীকে আটক করে।
সফর আলী পুলিশের কাছে গৃহবধু মুন্নী আক্তার হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়ার কথা স্বীকার করে জানায়, গলায় কাপড় পেঁচিয়ে মুন্নীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার লাশ সোনার গাওঁ থানার নুনেরটেক এলাকায় মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়। তবে লাশটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
আড়াইহাজার থানার (ওসি) এম এ হক জানান, আটক সফর আলীর কাছ থেকে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। লাশ উদ্ধারে পুলিশ ও ডুবুরি দল মেঘনা নদীতে কাজ করছে।
ইত্তেফাক/নূহু
