বোমা হামলা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৮, ০১:২৬
রাজশাহীতে বিএনপির নির্বাচনী পথসভার কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাদের বাগযুদ্ধ জমে উঠেছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।
 
এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং সরে যেতে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের নির্দেশে জঙ্গি মদদদাতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ইন্ধনে বিএনপিই নিজেদের পথসভায় বোমা হামলা চালিয়ে এখন আওয়ামী লীগের উপর দোষ চাপাচ্ছে।
 
অন্যদিকে এই বোমা হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী সিটি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ভীতি প্রদর্শনের জন্য চিহ্নিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে। কিন্তু বোমা মেরে বা নির্যাতন করে বিএনপিকে কোনভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। বিএনপি বীরের দল। তারা জীবনের ভয় পায়না।
 
এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত নির্বাচনী সমন্বয় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাত চৌধুরী বলেছেন, রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এধরণের ঘটনা এড়ানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 
আওয়ামী লীগের জরুরি সংবাদ সম্মেলন
 
মঙ্গলবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী লিটন ও আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, নৌকার পক্ষে গণজোয়ার দেখে পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ভোটের মাঠ থেকে সরে যেতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের পথসভায় বিএনপিই বোমা হামলা করেছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পথসভায় দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ইন্ধনেই বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নাটোরের ত্রাস হিসেবে খ্যাত, বাংলাভাইয়ের মদদদাতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু গত সোমবার রাজশাহীতে অবস্থানের পর থেকে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজশাহী পর্যটন মোটেল থেকে লন্ডনে থাকা বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে বেশ সময় ধরে কথা বলেন দুলু। তারেকের কথা মত সকালে দুলু এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি বিএনপির নেতা দুলুকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
 
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এসএম কামাল বলেন, রাজশাহীর নির্বাচনী মাঠ ভালো আছে। আচরণবিধি মেনে প্রচার করায় লিটন ও নৌকার পক্ষে গণজোয়ার উঠেছে। তাই নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতা দুলুরা নিজেদের সভায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের কাঁধে দায় চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, নাটোরের দুলুকে সবাই চেনে। তিনি বাংলাভাইয়ের অন্যতম মদদতাদা, জঙ্গীদের পৃষ্টপোষক। তারেকের নির্দেশে দুলুর পরিকল্পনায় নিজেরাও বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটের উৎসবকে ম্লান করতে চাইছেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, নাটোরের ত্রাস দুলু রাজশাহীতে এসে ভোটের মাঠ উত্তপ্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছেন। রাজশাহী শান্তির জনপদ। আগে কোনো নির্বাচনে সহিংসতা ঘটেনি। যত সহিংসতা ঘটেছে সব নাটোরে। নাটোরের ত্রাস এখন রাজশাহীর পরিবেশ নষ্টের ষড়যন্ত্র করছেন। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, মাহফুজুল আলম লোটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হুদা রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
বিএনপির প্রেসব্রিফিং ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
 
দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, তিনি জেলা ছাত্রদলের গণসংযোগ উদ্বোধনী বক্তব্য দেয়ার সময় হঠাৎ কয়েকটি বিকট শব্দ হয়। তিনি কিছু বুঝে উঠার আগেই বাংলাভিশনের সাংবাদিক আদিত্য মাটিতে পড়ে যান। সন্ত্রাসীদের ধরতে গেলে সন্ত্রাসীরা পিস্তল উঁচিয়ে পালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ রাসিক নির্বাচনে নিশ্চিত পারজয় জেনে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে।
 
বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, বিএনপির জনপ্রিয়তায় আওয়ামী লীগ শংকিত হয়ে বোমা হামলা করেছে। আগে থেকেই তাদের এই পরিকল্পনা ছিল। বোমা কেন? অন্য যেকোন হামলা মোকাবেলার ক্ষমতা রাখে বিএনপি। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে না। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, বাড়িতে হামলা করছে। তারা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল ও সিল মারার স্বপ্ন দেখছে। তিনি এই সকল কর্মাকাণ্ডে জড়িত ও নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
 
রিটার্নি অফিসারকে বিএনপির অভিযোগ
 
এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন তপু রিটার্নিং অফিসারকে পৃথক লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান ও সাংবাদিক পরিতোষ চৌধুরী আদিত্যসহ বিএনপির ১০/১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছে দাবি করে অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘পুলিশি অপতৎপরতা, নৌকার সমর্থকদের একের পর এক তাণ্ডবে তাদের সমস্ত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা চরম শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমতাবস্থায় তাদের পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা প্রায় অসম্ভব। ঘটনা প্রবাহ নির্বাচনী লেভেল প্লেইং ফিল্ডের অন্তরায় এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর সাগরপাড়ায় জেলা ছাত্রদল আয়োজিত বিএনপির মেয়রপ্রার্থী বুলবুলের পথসভার কাছে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বাংলাভিশন টেলিভিশনের রাজশাহী প্রতিনিধি পরিতোষ চৌধুরী আদিত্য ও স্বপন কর্মকার আহত হন।
 
লিটনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার : জামায়াত নেত্রী আটক
 
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিটনের অপপ্রচারের অভিযোগে মহিলা জামায়াতের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমির বেলি বেগমকে (৪৫) আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মতিহার থানার সুরাথানের মোড় থেকে আটক বেলি ওই এলাকার ফিরোজের স্ত্রী। 
 
দুই মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগ
 
লিটন সকালে মঙ্গলবার ২৩নং ওয়ার্ডের পাচানী মাঠ, টিকাপাড়া ও হালদারের মোড়, দুপুরে কুমারপাড়ায় গণসংযোগ করেন। এরআগে সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অন্যদিকে বুলবুল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ১৫নং এবং বিকেল থেকে রাত অবধি ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি