ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা চকপাড়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর ফজিলা হত্যার রহস্য অবশেষে উদঘাটিত হলো। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফজিলার ছেলে হাবিবুর রহমান ভুট্টো (৪৫), তার স্ত্রী রেখা খাতুন (৪০), সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন (৩৫), ওই গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব (৫০) ও হবিকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ১৬ জুলাই রাতে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ওই দিনই হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী রেখা খাতুন শেরপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দায় স্বীকার করে। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ৩ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বুধবার রিমান্ডের আবেদন করেছে।
জানা যায়, গত ২৪ মে রাতে হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৭৫) খুন হয়। এ ব্যাপারে ফজিলা খাতুনের ছেলে আব্দুল রাজ্জাক বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রায় দুই মাস পর এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।
ফজিলার ছেলে হাবিবুর রহমান ভুট্টো ও তার স্ত্রী রেখা খাতুনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, ভুট্টোর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে শাহ জাহান সোহেল গংদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। হাতিবান্ধা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন, ওই গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব ও হবির পরামর্শে প্রতিপক্ষদের ফাঁসাতে নিজ হাতে মা ফজিলা খাতুনকে খুনের সিদ্ধান্ত নেয় তার ছেলে হাবিবুর রহমান।
পুলিশ জানায়, এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাবিবুর রহমান উপজেলার তিনানী বাজারের এক কর্মকারের দোকান থেকে একটি ধারালো দা তৈরি করে আনে। ঘটনার রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী রেখা খাতুন মিলে মা ফজিলা খাতুনকে গলা কেটে হত্যা করে বাড়ির পাশের জঙ্গলে লাশ ফেলে রাখে। পরদিন থানা পুলিশ ফজিলার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ ফজিলা হত্যার কাজে ব্যবহৃত আলামত দা ও গামছা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
