১২ মিলিয়ন টন বরফখণ্ডের হুমকিতে গ্রিনল্যান্ডের গ্রাম

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৮, ০২:২৮
উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। দ্বীপটির অধিকাংশই আর্কটিক বৃত্তের উত্তর অংশে অবস্থিত। এটি পশ্চিমদিকে ডেভিস প্রণালী ও ব্যাফিন উপসাগর দ্বারা প্রাথমিকভাবে কানাডীয় আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পূর্বদিকে ডেনমার্ক প্রণালী দ্বারা আইসল্যান্ড থেকে পৃথক হয়েছে। মেরু অঞ্চলে এর ভৌগোলিক অবস্থান হওয়ায় এখানে সূর্যের দেখা পাওয়া যায় দিনে মাত্র তিন ঘণ্টার মতো। ফলে সেখানকার শীতকাল বা শৈত্যপ্রবাহকাল খুব দীর্ঘ সময় হয়ে থাকে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় হিমবাহের গলন। প্রতি বছরই প্রচুর হিমবাহ গলে কিন্তু এবছর ১২ মিলিয়ন টনের একটি বিশাল বরফখণ্ড এসে দাঁড়িয়েছে গ্রিনল্যান্ডের ইনারসুইট গ্রামের তীরে! ইনারসুইটে ১৬৯ জন বাসিন্দার বাস। ১২ মিলিয়ন টনের এই বরফখণ্ড গ্রামবাসীর জন্য রীতিমতো  আতঙ্কের কারণে পরিণত হয়েছে। কারণ এটি ভেঙে পড়লে সৃষ্ট ঢেউয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে নদীর তীরে থাকা বাড়িগুলো।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই ধরনের বরফখণ্ড হিমবাহ থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ইনারসুইটের দিকে ধেয়ে আসা বরফখণ্ডটির বিস্তৃতি ৬৫৬ ফুট বা ২০০ মিটারের মতো আর এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটারের কাছাকাছি। ইনারসুইট গ্রামটি একটি কোনাকুনি পাথুরে জায়গার উপরে গড়ে উঠেছে। এর তিন দিকেই সমুদ্র। গ্রামের চেয়ে ঢের বড় এই বরফণ্ডটি। বরফখণ্ডটিকে তাই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা মাথায়ই আনছে না কর্তৃপক্ষ। বরং গ্রামবাসীকে কীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া যায় সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
 
উত্তর মেরুর কাছাকাছি গ্রিনল্যান্ডের পুরো অংশটাই বরফে আচ্ছাদিত। আর এই বরফ স্তরের আয়তন প্রায় ১৮ লাখ বর্গকিলোমিটার যে বরফের স্তর গড়ে দেড় কিলোমিটারের বেশি পুরু। গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবছর গরম এবং ঠান্ডা মৌসুমে গড়ে ২৭০ বিলিয়ন টন বরফ গলে। ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর হিমবাহ বিশারদ ক্রিস্টিন পোইনার বলেন, গ্রীষ্মে গ্রিনল্যান্ডে এই ধরনের বরফ দেখতে পাওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা। আর ইনারসুইটের পাশে চলে আসা এই বরফখণ্ডটি প্রতি বছর গলে যাওয়া মোট বরফের দশ হাজার ভাগের একভাগ মাত্র। তবে চিন্তা বিষয়, এই বরফখণ্ডটি একটি গ্রামের খুব কাছে চলে এসেছে যা কিনা যে কোন গ্রামটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। গ্রামের বাড়িঘর, উপকূলীয় পাওয়া প্লান্টগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
 
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানী ইরিক রিগনোট বলেন, ফাঁটল তৈরি হওয়া বিশালাকার বরফখণ্ডটি সমুদ্রে ভেঙ্গে পড়লে সেই ঢেউয়ের তোড়ে প্রচণ্ড শক্তির উদগীরণ ঘটবে যা কিনা গ্রামটিতে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যথেষ্ট। তবে কবে নাগাদ এই বরফখণ্ড ভেঙ্গে পড়বে তা কারো পক্ষে আগাম জানানো সম্ভব নয়।-ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক