নতুন একটি ‘গণতন্ত্রের সনদের’ জন্য পাকিস্তানের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করতে চায় পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। পিপিপি’র সভাপতি বিলাওয়াল ভুট্টো গত মঙ্গলবার এমন আহ্বান জানিয়েছেন। খবর দ্য নেশনের।
২০০৬ সালের মে মাসে লন্ডনে সাবেক দুই পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও নওয়াজ শরিফ ৩৬ দফাবিশিষ্ট একটি গণতন্ত্র সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাসিত এই দুই নেতা সনদটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
ওই সনদে দুই পক্ষ স্বীকার করেছিল, অতীতে রাজনীতির বাইরের শক্তির সহায়তা নিয়ে একে অপরকে হটিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা ভুল করেছিলো। বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের পর ২০০৮ সালে পিপিপি সরকার গঠন করে এবং এর পরপরই দুই দল গণতন্ত্রের সনদ লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করতে থাকে।
বেনজির পুত্র বিলাওয়াল মনে করেন, ওই সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তার দল কোনো ইতিবাচক অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেনি। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অপর পক্ষ থেকে আমরা এ ব্যাপারে সদাচার পাইনি। নওয়াজ ও শাহবাজ শরিফ, দুইজনের সঙ্গেই আমাদের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল না।’
বিলওয়াল আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র সনদের নীতিমালা, ১৮তম সংশোধনী ও গণতন্ত্র নিয়ে সব দলের মতৈক্য থাকা দরকার। মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর স্বাধীনতা ও মুক্ত মত নিয়ে আপস না করার ব্যাপারে সবাইকে সম্মত হতে হবে।’
আসন্ন নির্বাচন প্রশ্নে বিলাওয়াল দাবি করেন, তার দল দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশকে বর্তমান সংকট থেকে মুক্ত করাটাই আমার রাজনৈতিক লক্ষ্য। অতীতেও ক্ষমতায় আসার পর পিপিপি দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে।’ নির্বাচনে পিপিপি জিতলে কাকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বিলওয়াল বলেন, সেটা নির্বাচনের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/ জেআর
