নিরাপত্তাজনিত কারণে জেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হল নওয়াজ, মরিয়ম ও সফদারকে

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৮, ১৫:০৪
নিরাপত্তাজনিত কারণে রাওয়ালপিন্ডির আদিলা জেল থেকে সিহালা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, তার কন্যা মরিয়ম শরিফ ও জামাতা মোহাম্মদ সফদারকে। স্থানীয় ও ভারতীয় গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।
 
বর্তমান পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, নওয়াজ ও মরিয়মকে রাজধানী ইসলামাবাদের অদূরে একটি সাব-জেলে রাখা হয়েছে। 
 
আদিলা জেলা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বর্তমান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে শরিফ জেলে তাঁর বারাকের মধ্যে পায়চারি করছিলেন। তখন কিছু বন্দি তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। ওই বন্দিদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় জেলে নওয়াজ ও মরিয়মের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
 
নিরাপত্তার কারণে তাকে জেলের মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তিনি অবশ্য নিজের সেলেই নামাজ পড়েন।
 
ওই ঘটনার পর তাদের আদিলা জেল থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর তাদের ইসলামাবাদের কাছেই সিহালা পুলিস ট্রেনিং কলেজের পাশে একটি সাব-জেলে পাঠানো হয়। সেটি আবার সিহালা রেস্ট হাউস নামেও পরিচিতি রয়েছে। 
 
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন জানিয়েছে, বুধবার রাতেই ‘বম্ব স্কোয়াডের’ সদস্যরা সিহালার পুলিশ কলেজ এলাকা পরীক্ষা করে দেখেন। তাঁরা সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার পরই শরিফ ও তাঁর মেয়েকে সেখানে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই রেস্ট হাউসটিকে সাব-জেল ঘোষণা করে কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। 
 
এছাড়াও সেখানে সমস্ত ভিআইপি বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বাতানুকুল কক্ষ থেকে টিভি, ফ্রিজ, বিলাসবহুল শোয়ার ঘর, সঙ্গে লাগোয়া ওয়াশরুম সহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রাখার সমস্ত ব্যবস্থা সেখানে রয়েছে। জেলে যাওয়ার পর আজই প্রথম শরিফের সঙ্গে তার মেয়ের দেখা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, লন্ডনে বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাট কেনার অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৬ জুলাই নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। মেয়ে মরিয়মকে দেওয়া হয় ৭ বছরের কারাদণ্ড। গত সপ্তাহে বিমানে করে লন্ডন থেকে লাহোর ফিরতেই গ্রেপ্তার হন তাঁরা। 
 
আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে ভোটের আগে জেল থেকে তাঁদের ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
 
এদিকে, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস(পিমস) এর বরাত দিয়ে ডন জানিয়েছে, সিহালার পুলিশ প্রশিক্ষণ কলেজ রেস্ট হাউজে চিকিৎসাকর্মীদের একটি দল পাঠানো হয়েছে। দলের সকল সদস্য নারী। তারা এখন থেকে সেখানেই অবস্থান করবে। তাদের পাশাপাশি একটি অ্যাম্বুলেন্সও এখন থেকে  রেস্ট হাউজটিতে অবস্থান  করবে। 
 
ক্যাপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ডিভিশন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নিয়েছে পিমস। 
 
ইত্তেফাক/ জেআর