গ্যাস সংকটে দীর্ঘ ১৫ মাস বন্ধ থাকার পর চালু করার ১২দিন না যেতেই আবারো উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা। গত বৃহস্পতিবার বিকালে মৌখিক নির্দেশে আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।
১২দিনে ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার টন। এদিকে গত ১৫ মাস কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ১২ হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতা হিসাবে ৭শ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৫ লাখ টন ইউরিয়ার সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
এতে সার সংকট কাটাতে কারখানা যেমন আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে তেমনি লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি দিন দিন লোকাসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। এনিয়ে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ সার কারখানাটি পুরো মাত্রায় চালু রাখতে ৪৮ থেকে ৫২ এমএম সিএফ গ্যাস প্রয়োজন হয়। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলো সচল রাখতে গত বছরের ১৯ এপ্রিলে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। তাই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় সার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে।
পরবর্তীতে শ্রমিকদের ধারাবাহিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুন কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকার ফলে যন্ত্রপাতি সচল করতে সময় লাগে যায় ২০দিন। গত ২ জুলাই ভোর থেকে উৎপাদন শুরু হয়।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিকালে মৌখিক নির্দেশে আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ফলে চালু হবার ১২দিন যেতে না যেতেই আবারো কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এব্যাপারে কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, গত ১৫ মাসের মধ্যে আমরা গ্যাস সরবরাহ পেয়েছি এক মাস। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘ বন্ধ রাখলে কারখানাটি এক সময় অচল হয়ে পড়বে। এনিয়ে সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীদের অসন্তোষ বিরাজ করছে।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক এটিএম বাকী জানান, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি মৌখিক নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার বিকালে আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। যার কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
বিসিআইসির পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী মো. আলী আক্কাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানায় সার মজুদ নাই। তাই বিদেশ থেকে আমদানি করা সার দিয়ে কারখানার কমান্ড এরিয়াভুক্ত সাত জেলায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
