রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব তেনাপচা গ্রামে রবিবার বিকালে আঙ্গুরী খাতুন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ হতে একে আত্মহত্যা দাবি করা হলেও চিকিৎসকরা লাশের শরীরে আত্মহত্যার কোন উপসর্গ পাননি বলে জানান। নিহত স্কুলছাত্রী তেনাপচা গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক শেখের মেয়ে এবং স্থানীয় চৌধুরী মাহবুব হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস মন্ডল বলেন, রবিবার বিকাল ৫টার দিকে আঙ্গুরীকে মৃত অবস্থায় এক প্রতিবেশীর সহায়তায় তার মা গোলাপী বেগম হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আঙ্গুরীর মা তার মেয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন। তবে আমরা লাশের গলার এক পাশে চিকন দাগ ছাড়া আত্মহত্যার সাধারণ তেমন কোন উপসর্গ পাইনি। আমাদের কাছে বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হয়েছে। তবে ময়না তদন্ত ছাড়া সঠিক কারণ বলা মুশকিল।
এ বিষয়ে কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, বাড়িতে সাংসারিক কাজকে কেন্দ্র করে মা ও মেয়ের মধ্যে ওই দিন ঝগড়া এবং হাতহাতি হয়। এরপরে আমরা শুনতে পাই স্কুলছাত্রী আঙ্গুরী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, এ মৃত্যুর ব্যাপারে পরিবার থেকে কারো কোন অভিযোগ আসেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে মায়ের ওপর অভিমান করে কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। পরে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
