মনোহরদী সরকারী হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্মে রোগীদের সীমাহীন ভোগান্তি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৮, ২১:৫০

মনোহরদী সরকারী হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্মে প্রতিনিয়তই রোগীরা সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সোমবার দুপুর একটায় মনোহরদী সরকারী হাসপাতালে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায় হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান তালুকদার তার রুমে বসে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন রোগীরা দাঁড়িয়ে সেবা নিচ্ছেন আর রোগীদের জন্য রাখা টুলে বসে আছে পেশাদার দালাল আবুল কালাম।

ডা. আসাদুজ্জামান তালুকদার রোগীদের রোগের কথা শোনার আগেই একগাদা পরীক্ষা নিরীক্ষা ব্যাবস্থাপত্রে লিখে দিচ্ছেন। আর দালাল তখনই তার লোকদের দিয়ে রোগীদের নিয়ে যায় সরকারী হাসপাতালের দেওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে।

কোন রোগী পরীক্ষা নিরীক্ষা না করলে তার ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তার ওষুধের নাম লেখেন না। বাধ্য হয়ে রেগীরা প্রয়োজন ছাড়াও পরীক্ষা করে গচ্চা দিচ্ছে পকেটের টাকা। এ সকল অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ফিসের টাকার সিংহভাগ যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও দালালদের হাতে।

দৈনিক ইত্তেফাকের মনোহরদী সংবাদদাতা নাজমুল সাখাওয়াত ও দৈনিক প্রথম ভোরের সংবাদদাতা রাকিব এ বিষয়টি মনোহরদী উপজেলা সরকারী হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলামকে জানালে তিনি ডা. আসাদুজাজমান তালুকদারের কক্ষে এসে দেখেন তার সামনে রোগীদের বসার জন্য রাখা টুলে দালাল আবুল কালাম বসে আছে। কর্মকর্তা ডাক্তার শফিকুল ইসলাম দালাল কালামকে বসে থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলে স্যার ১টা বাজে এইজন্য বসে আছি। আমার রোগী আছে ভর্তি করছি। সে সময় ডাক্তার আসাদুজ্জামান তড়িঘড়ি করে দালাল কালামের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন স্যার রোগী ভর্তি করেছি।

দালাল কালামের কথায় ডা. আসাদুজ্জামান সুর মিলানোর সঙ্গে সঙ্গে দালাল কালাম ক্ষিপ্ত হয়ে বলে আমার বাড়িতে আমি বসে আছি আপনারা বলার কে? তখন কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি হাসপাতাল তোমার বাড়ি নয়। এ সময় হাসপাতলের লোকজন জড় হতে থাকলে দালাল আবুল কালাম হাসপাতালের বাইরে চলে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিকুল ইসলামের কাছে দালাল ও দালালদের সঙ্গে জড়িত ডাক্তারদের ব্যপারে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তবে আগামীকাল থেকে এমন অবস্থা হবে না।

আশেপাশের এলাকা ঘুরে জানা যায়, ইউএইচএফপিও ডা. শফিকুল ইসলামের হাসপাতালের প্রাচীর সংলগ্ন বাড়ি রয়েছে যখানে তিনি প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে থাকেন। যে কারণে তিনি স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন না। তার প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে মনোহরদী সরকারী হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু