ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন। এই ১৩ টি ইউনিয়নে দেড় বছরে প্রায় দেড় শতাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আত্নহত্যাকারীদের তালিকায় দশ বছরের শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত রয়েছে। এর মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি।
প্রেম সংক্রান্ত ঘটনা, শারীরিক অসুস্থ্যতা ও পারিবারিক কলহের কারনে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া গত দেড় বছরে বিষ পানের প্রায় ৫ শতাধিক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।
গত দেড় বছরে ৯৫ জন আত্মহত্যার ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। গত জুন মাস থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ১১টি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে থানায়।
লাশ কাটা ছেঁড়ার ভয়ে অনেক সময় সামাজিকভাবে সমাধান হয়ে থানা পুলিশকে না জানিয়ে দাফন্ন সম্পন করে ফেলে।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী ৯৫টি আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হলেও প্রকৃতপক্ষে দেড় বছরে প্রায় দেড় শতাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে উপজেলায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, গড়ে প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী আসে হাসপতালে। যারা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। রোগীর বেশিরভাগ স্বজনরা বলেছে আত্মহত্যার চেষ্টা চালানোর কারন পারিবারিক অশান্তি ও প্রেম সংক্রান্ত ঘটনা।
ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম বলেন, স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনার পিছনে মূল কারণই হচ্ছে প্রেম। অন্যান্য আত্মহত্যার পিছনে সংসারে অশান্তি ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারনেই আত্মহত্যার মতো জঘন্যতম ঘটনা ঘটায়।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন, মানসিক চাপে পড়ে ও পুষ্টিহীনতার কারনেও অনেক সময় আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করতে হলে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। সন্তানদের চলাফেরার প্রতি পিতা-মাতার সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। আর সন্তানদের সঙ্গে সবসময় বন্ধুসূলভ ব্যবহার করতে হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
