টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে বন্দর নগরী

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৮, ০২:০০
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন গলি-উপগলি, রাস্তাঘাট, মাঠ, বিদ্যালয়, ঘর-বাড়ি ডুবে যায়। বেলা ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অবিরত বৃষ্টিতে সিডিএ এভিনিউসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির মধ্যে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছাত্র-ছাত্রী এবং অফিস-আদালতগামী লোকজন দুর্ভোগের শিকার হন। নগরীর ব্যাপক অংশে জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা।
 
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিতে চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, সিডিএ আবাসিক, আগ্রাবাদ, হালিশহর, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ আবাসিক, দুই নম্বর গেট, ষোলকবহর, প্রবর্তক মোড়সহ অর্ধশতাধিক নিচু এলাকা অস্থায়ীভাবে হাঁটু থেকে কোমর পানির নিচে তলিয়ে যায়। যানজটের কারণে এমএ মান্নান ফ্লাইওভার ও আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের উভয় দিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সেগুলোর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলও সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া নাসিরাবাদ দুই নম্বর গেট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত ফ্লাইওভারের কাজ চলার কারণে নিচের সড়কগুলোতে কাদা পানিতে জনচলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে ছোট-বড় অনেক যানবাহন। জোয়ারের সময় বৃষ্টির পরিমাণ থেমে থেমে বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল নগরীতে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায়।
 
গতকাল বিকাল ৩টা নাগাদ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার। ভারী বর্ষণ আজ বুধবারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস থেকে জানান আবহাওয়া কর্মকর্তা ফারজান নাসরিন। চট্টগ্রাম ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইকিং করা হয়।
 
বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে বলে ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে জানানো হয়। অন্যদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটারিং কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে বলে বন্দর সূত্র জানিয়েছে।