বিশ্বের সবচে ঝড়ো হাওয়ার এলাকা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৮, ০২:০৮
বাতাস পৃথিবীর সব স্থানেই আছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো কোনো স্থানে বাতাসের প্রবাহ অস্বাভাবিক বেশি। এসব স্থানের বাতাসের প্রবাহ ঝড়-বৃষ্টির উপর নির্ভর করে না। প্রখর সূর্যের আলোর মধ্যেও এসব এলাকার বাতাসের গতি যেমন, ঝড়ের সময়ও তেমন। এর রহস্য কি সেটা আবহাওয়া গবেষকরা বের করতে পারেনি এখনো।
 
এদের একটি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলীয় বারো আইল্যান্ড। এই দ্বীপে বায়ুপ্রবাহ মানুষের কাছে এক অপার বিস্ময়। দিন হোক বা রাত হোক, পরিস্কার কিংবা মেঘলা আকাশ—সবসময় পরিস্থিতি এক। মানুষকে এখানে খরস্রোতা নদীতে সাতরানোর মতো বাতাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলতে হয়। এখানে সরকারি ভাবে ২৪ ঘন্টা বায়ুপ্রবাহের তথ্য রেকর্ড করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১০ এপ্রিল এখানে ঘন্টায় ৪০৮ কিলোমিটার গতিতে বাতাসের প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল। এটাই ছিল ইতিহাসে এযাবত রেকর্ড করা বাতাসের সর্বোচ্চ গতি। ১৯৬১ সালে এখানে ৩৪৬ কিলোমিটার পর্যন্ত  গতিতে বায়ু প্রবাহিত হয়েছে বলে রেকর্ডকৃত ডাটায় দেখা গেছে। অথচ এর থেকে অনেক কম গতির ঝড়েও বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং ব্যাপক সম্পদ নষ্টের ঘটনা বহুবার ঘটেছে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা আরেকটি ঝড়ো বাতাসবহুল অঞ্চল। এখানেও বাতাসের গড় গতি অস্বাভাবিক রকমের বেশি। এই রাজ্যে ঘন ঘন টর্নেডো আঘাত হানে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য,  সেখানে ২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ২০৭টি টর্নোডো জন্ম নিয়েছিল। এখানেও ৪০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে টর্নেডো আঘাত করার রেকর্ড আছে। এর বাইরে অ্যান্টার্কটিকাতেও প্রচুর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। এখানকার অনেক অঞ্চলের পরিস্থিতি একই রকম। মানে বাতাসের স্বাভাবিক গতি আমাদের দেশের সাইক্লোনের গতির চেয়ে বেশি!