পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পুকুর থেকে কবিতা রানী নামে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুলিশ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। কবিতা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের রাজেন্দ্র নাথের মেয়ে এবং পামুলী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কবিতা রানীর লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের শান্তিরহাট ডাঙ্গাপাড়া এলাকার সুরুজ আলীর পুত্র আনিসুর রহমান আনিস তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে উত্যক্ত করতো। আনিস তার সাথে অবৈধ সম্পর্কও গড়ে তোলে। বুধবার রাতে কবিতাকে ঘরে দেখতে না পেয়ে কবিতার বড় বোন বাবা-মাকে জানায়। রাতে অনেক খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে পুকুরে কবিতার লাশ দেখতে পায় পরিবারের লোকেরা। তাৎক্ষনিক তার লাশ পুকুর থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসে। দেবীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়।
কবিতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে আনিস পলাতক এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
কবিতার বড় বোন সাগরিকা জানান, আনিস কবিতা রানীকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করতো। সে আমাকেও ভয়ভীতি দেখিয়েছে। ঘটনাটা ফাঁস হলে আমাকেও হত্যার হুমকি দিয়েছে। বুধবার গভীর রাতে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
কবিতা রানীর চাচা ডালিম চন্দ্র রায় জানান, গভীর রাতে কবিতা রানী কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে কেউ না কেউ জড়িত রয়েছে। এ নিয়ে কবিতা রানীর খাতায় তার হাতের একটি লেখা পাওয়া গেছে। সেটা পুলিশকে দেওয়া হবে।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করে দেবীগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে বিকেলে পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে। ময়না তদন্তের রির্পোটের ওপর ভিত্তি করেও পরবর্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
