জিম্বাবুয়ের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যা জানা দরকার আপনার

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১০:৩২
১৯৮০ সালের পর প্রথমবারের মতো সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জিম্বাবুয়েতে। স্থানীয় সময় সকাল ৭:০০টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা) খুলে দেওয়া হবে। বন্ধ হবে সন্ধ্যা ৭:০০টায়।  নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫৫টি দল থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ২৩ প্রার্থী। 
 
নির্বাচনের প্রচারণা পর্ব বেশ শান্তিপূর্ণই ছিল। তবে জানু-পিএফ পার্টির এক সমাবেশে বিস্ফোরণ ঘটার পর থেকে নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 
 
অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে জিম্বাবুয়ের এইবারের নির্বাচন কিছুটা ভিন্ন। দেশটির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত এটি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(ইইউ) ও কমনওয়েলথ গ্রুপ থেকে পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনে নজরদারি করতে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 
 
এই নির্বাচন নিয়ে যা যা জানা দরকার আপনার:
 
IMG0
থাকছেন না মুগাবে
 
১৯৮০ সাল থেকে টানা জিম্বাবুয়ে শাসন করে আসলেও, এই প্রথমবারের মতো নির্বাচনে থাকছেন না সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে।
 
গত নভেম্বরে ৯৪ বছর বয়সী মুগাবের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করে দেশটির সামরিক বাহিনী। মুগাবের জায়গায় জানু-পিএফ পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমারসন নানগাগওয়া। তিনি এইবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়ছে। উল্লেখ্য, নানগাগওয়া ‘ক্রোকোডাইল’(কুমির) নামেও পরিচিত। 
 
IMG1
প্রধান প্রার্থী কারা?
 
নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ২৩ জন। এদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও চারজন নারী। এদের প্রত্যেকেই প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।  
 
প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে জানু-পিএফ দলের নেতা নানগাগওয়া ও মুভমেন্ট ফর দ্য ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ অ্যালায়েন্সের (এমডিসি অ্যালায়েন্স) প্রধান নেলসন চামিসা।
 
উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়েতে  প্রেসিডেন্ট  হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য কোন প্রার্থীকে অবশ্যই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হতে হবে।  অন্যথায় দ্বিতীয় দফায় শীর্ষ প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 
 
ভোটাররা নির্বাচনে ৫৫টি দল থেকে ৩৫০জন এমপি নির্বাচিত করবেন। দেশজুড়ে নির্বাচন উপলক্ষে ১১ হাজার ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। 
 
এজেন্ডার শীর্ষে থাকছে অর্থনীতি
 
নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে গত দুই দশক ধরে নিচে নেমে আসা অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সংকট দূর করা। নানগাগওয়া ও চামিসা উভয়েই বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানের সংকট দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
 
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে চরম মুদ্রাস্ফীতির কারণে জিম্বাবুয়ের নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাদ দিয়ে ব্যবসার জন্য বিদেশী মুদ্রা ব্যবহার শুরু করা হয়। 
 
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন?
 
২০০২ সালের পর এই প্রথম জিম্বাবুয়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 
 
এমডিসি অ্যালায়েন্স অভিযোগ করেছে যে, দেশের নির্বাচন কমিশন জানু-পিএফ পার্টির সুবিধার্থে কাজ করেছে। দুই কলামের ডিজাইনের ব্যালটে নানগাগওয়ার নাম রয়েছে দ্বিতীয় কলামের একেবারে শীর্ষে। কিন্তু চামিসার নাম রয়েছে প্রথম কলামের দ্বিতীয় সারিতে। 
 
নির্বাচন কমিশন অবশ্য বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ব্যালট পেপার এক কলামের হলে ভোটাররা সেটি ব্যালট বক্সে ঢুকাতে পারতো না। কেননা, সেটি ভাজ করলে বেশি মোটা হয়ে যেত। 
 
এছাড়া, ভোটারদের ভয় দেখানো ও বলপ্রয়োগের অভিযোগও ওঠেছে জানু-পিএফের বিরুদ্ধে। এমনকি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে জানু-পিএফ পার্টির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগ ওঠেছে। 
 
IMG2
 
তরুণ ভোটার
 
তরুণ ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়া নিয়ে উদাসীনতা জিম্বাবুয়ের অতীত নির্বাচনগুলোতে খুবই সাধারণ ঘটনা। তবে এইবারের নির্বাচন ঘিরে তরুণদের মধ্যে উত্তেজনা খেয়াল করা গেছে। নিবন্ধিত ৫৬ লাখ ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোটারের বয়সই ৪০ এর নিচে। 
 
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এইবারের নির্বাচনে তরুণরা ভাগ্য-নির্ধারনী ভূমিকা রাখবে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাকুরা ঝাঙ্ঘাঝা বলেন, তরুণদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ কেননা, এর মানে হচ্ছে অনেক নতুন ভোটার আসছে। একটা নতুন প্রজন্ম ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছে।
 
এর মানে হচ্ছে জিম্বাবুয়ের নির্বাচন যে-ই জিততে চায় না কেন, তাকে নিশ্চিতভাবেই  তরুণদের খুশি করতে হবে। (আল জাজিরা অবলম্বনে) 
 
ইত্তেফাক/ জেআর