মিরপুরে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষের বীজ রোপন

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৬:৪২
কুৃষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মির্জানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল রবিবার চারটি ইনোভেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। কার্যক্রমগুলো ছিল ক্ষুদে পণ্ডিতের পাঠশালা, গণিত হাট, ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির বৃক্ষ রোপণ। 
 
এরমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপনটি ছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। যা নজর কেড়েছে অনেকের। সচরাচর বৃক্ষের চারা রোপন করা দৃশ্যের বাইরে এদিন বিদ্যালয়ের ৩২ জন প্রাক-প্রাথমিকের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফান্ড থেকে টব কিনে কিনে দেওয়া হয়। সেই টবে রোপন করতে দেওয়া হয় আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের বীজ।
 
ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব টবে কাঁঠালের বীজ রোপন করে খুব আনন্দ পেয়েছে জানিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নূরুন নাহার বলেন, 'একটি বীজকে যত্ন করলে গাছ তৈরি হতে পারে। শিশুরা এর মাধ্যমে ইতিবাচক আনন্দ পাচ্ছে। সৃষ্টির আনন্দ পাচ্ছে। তারা দেখবে কিভাবে তার হাতে লাগানো বীজ থেকে কোমল কুঁড়ি বের হবে, নতুন পাতা গজাবে। প্রতিটি ধাপ তাকে মানসিক ইতিবাচক আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তার সৃষ্টিশীলতাকে জাগ্রত করবে। তাই এ উদ্যোগ গ্রহণ।
 
অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার খন্দকার শেফাইনুর আরেফিন, মির্জানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাক-প্রাথমিকের ৩২ শিশু শিক্ষার্থীর মায়েরা উপস্থিত ছিলেন।
 
বৃক্ষের বীজ বপনের ব্যতিক্রমি চিন্তাটি যার মাথা থেকে এসেছে তিনি মিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার খন্দকার শেফাইনুর আরেফিন। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে পাঁচ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যা করতে শিখতে পারে এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে এজন্য তাদের প্রত্যেকের নামে একটি করে টব ক্রয় করে তাতে কাঁঠালের বীজ বপন করা হয়। এই বীজ হতে গাছ গজিয়ে বড় হতে থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা তার নিজ নামের বৃক্ষটির বিদ্যালয়ে এসে পরিচর্যা করতে থাকবে। বৃক্ষটি হস্তান্তরযোগ্য হলে শিক্ষার্থীর মাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে মা সমাবেশ করে কাঁঠাল বৃক্ষটি তার বাড়িতে নিয়ে রোপণ করার জন্য হস্তান্তর করা হবে।
 
ব্যতিক্রমী এ আয়োজনটির ব্যাপারে অভিভাবকরেরা বলেন, শেফাইনুর আরেফিনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট উপজেলায়তো বটেই, উপজেলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য হতে পারে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
 
ইত্তেফাক/নূহু