আজ সোমবার অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র পদে নির্বাচনকে ‘অবৈধ, নিয়ম বহির্ভূত ভোট ডাকাতি, কারচুপি ও প্রকাশ্যভাবে ডাকাতি’ আখ্যায়িত করে নির্বাচন বাতিল এবং পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১১ দফা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী। এগুলো হলো- ১। রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ নির্বাচনের তফশীল পর থেকে প্রকাশ্যে অনিয়ম, বে-আইনি কার্যকলাপ এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন যেগুলি আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে বারবার জানানো হয়েছে এবং মৌখিকভাবে ও মিডিয়াতে জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু কোন পদক্ষেপ না নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন নির্বাচন কমিশন অফিস।
২। সরকার দলীয় প্রার্থীর পছন্দমত বেছে বেছে কট্টর আওয়ামীপন্থী ‘প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছেন এবং বার বার আবেদন করা সত্ত্বে ও (লিখিত) আমাদেরকে তার তালিকা দেওয়া হয়নি।
৩। আজ ৩০-০৭-২০১৮ ইং প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ প্রশাসন, সরকার দলীয় কর্মী সমর্থক যৌথভাবে বে-আইনি রুপে ৩৭টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট গ্রহণ করেনি এবং প্রবেশ করতে দেয়নি।
৪। সকাল ১০টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ কর্মকর্তারা এবং আওয়ামী লীগ যৌথভাবে মোট ৭৭টি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বলপূর্বক বের করে দেয়।
৫। প্রিজাইডিং অফিসারগণ, এজেন্টদের ব্যালট বাক্স হিসাব, ব্যালট পেপারের হিসাব দেয়নি এবং তাহাদের নিকট রক্ষিত ফর্মে আমাদের এজেন্টদের স্বাক্ষর নেয়নি। যা নির্বাচনী বিধানের পরিপন্থি।
৬। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশেনের ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে অত্যাধিক বিএনপি অধ্যুষিত ২০টি ওয়ার্ডে প্রত্যেক কেন্দ্রে ভোটারদের মেরে, ভোট দেওয়ার অধিকার না দিয়ে কোথাও কোথাও ৩টায়/সাড়ে ৩টায় ভোট গ্রহন বন্ধ করে দেয় এবং ভোটারদের তাড়িয়ে দেয়। যাহা সম্পূর্ণ বেআইনি, নির্বাচন বিধিমালা এবং সংবিধানিক অধিকারের লংঘন।
৭। প্রায় ১০-১১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণকালে দেখা যায় (আনুমানিক সকাল ১০টা) ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সেগুলি দিয়ে জাল ভোট দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ভোটারগণ মেয়রপদে ব্যালট ছাড়াই শুধুমাত্র কাউন্সিলর পদে ব্যালটে ভোট দেওয়া হয়।
৮। সকাল ১১টায় প্রায় ৩৫টি, ১২টায় ৪৮টি এবং দুপুর ১টার মধ্যে ১৩৮টি কেন্দ্রে আমাদের পোলিং এজেন্টদের বলপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ বিভাগ এবং আওয়ামী লীগ যৌথভাবে ৮২টি কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে দখল করে নেয় এবং সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নজির বিহীন জালিয়াতি শুরু করে।
৯। বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের প্রায় ৫০জন কর্মীদের সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্চনা ও মারধরের স্বীকার হতে হয়। যাদের মধ্যে দুইজনসহ আরো ৬-৭ জনের অবস্থা গুরুত্বর (১১ নং ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মী রকি, রাকিব)।
১০। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পূর্বে আংশিক ভর্তি ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং অফিসার বুথ হইতে পুলিশের সহযোগিতায় পোলিং এজেন্টদের বাধা উপেক্ষা করে জাল ভোট প্রদান করে, গোপনে সেগুলো বন্ধ করে দূরে রাখা হয়।
১১। ভোট গ্রহন শেষ হওয়ার পর বিকেল ৪টায় প্রিজাইডিং অফিসার এবং পুলিশ আমাদের সকল এজেন্টদেরকে বের করে দিয়ে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স নিজ হেফাজতে নেয় এবং ব্যাপকভাবে জাল ভোট প্রদান করে।
উপরোক্ত অভিযোগ ছাড়াও আরো অভিযোগ রয়েছে, অভিযোগের স্বপক্ষে দাবি ও তথ্যপ্রমাণাদি আছে। যা তদন্তকালে/বিচারকালে উপস্থাপন করা হবে বলে দাবি করেন বুলবুল।
ইত্তেফাক/কেকে
