বরিশালে ভোট বর্জন করে ৫ মেয়র প্রার্থীর বিক্ষোভ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৮, ০৮:৩৯
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এজেন্ট বের করে দেয়া, বহিরাগতদের দিয়ে ভোট দেয়াসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, জাপা, বাসদ ও কমিউনিস্টর প্রার্থীরা ভোট বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা সম্মিলিত ভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ভোটের নানান অনিয়ম সম্পর্কে অবহিত করেন।
 
মেয়র প্রার্থীরা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পর ভোট ডাকাতির মহা উৎসব শুরু হয় এবং ভোটারদের হাত থেকে মেয়র ভোটের ব্যালট সরকার দলীয় পুলিং এজেন্ট এবং সরকার দলীয় সমর্থকরা ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে ব্যালটবক্স ভর্তি করতে থাকে।
 
এছাড়াও বহিরাগত আওয়ামী লীগ নেতারা ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় অবস্থান করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে কেন্দ্র দখল করে তাদের সমর্থক ও এজেন্টদের বের করে দেয়। ৫ মেয়র প্রার্থীর লিখিত আবেদন আমলে নিয়ে রিটার্নিং কর্তকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে কথা বলবেন বলে তাদের জানিয়ে দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে বিএনপি প্রার্থী কর্মী-সমর্থকরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
 
অপরদিকে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। সোমবার সকালে সরকারি বরিশাল কলেজে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
 
ভোট দেয়ার পর সাদিক বলেন, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আমি। নৌকার বিজয় হবেই, তারপরও জনগণ যে রায় দেবে তা মেনে নেব। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ভোটার নং খুঁজে পেতে সময় ক্ষেপণ হয়। প্রায় ৩০মিনিট তিনি সেখানে অবস্থান করায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন।
 
সরওয়ার ঐ কেন্দ্র ত্যাগ করার পর বিশৃংখলা দেখা দেয়ায় প্রিজাইডিং অফিসার সঞ্জয় কুমার ভোট গ্রহণ স্থগিত করে সরঞ্জামাদী নিয়ে যান। হাতপাখার প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি ওবাইদুর রহমান মাহবুব ভোট দিয়েছেন আমনতগঞ্জের মাহমুদীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত লাঙল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস) ভোট দিয়েছেন মুসলিম গোরস্থান রোডের সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডিডিএফ সিনিয়র ও হাফেজি মাদরাসা কেন্দ্রে।
 
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদের) মই মার্কার প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বগুড়া রোডের অক্সফোর্ড মিশন হাইস্কুলে ভোট দিয়েছেন। সিপিবির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ কাউনিয়ার বিনাপানি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন।
 
সরওয়ার নগরীর ২নং ওয়ার্ডের মানিক মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ কাউনিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এ.কাদের চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে এজেন্ট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, তার এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দিয়ে ভোট ডাকাতি হচ্ছে।
 
সকাল ১০টার দিকে নগরীর সদর গার্লস কেন্দ্রে বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী তার উপর হামলার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে নির্বাচন বর্জন করেন এবং  সংবাদ সম্মেলন করে আজ সারাদেশে বাসদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন। বেলা ১১টার দিকে নগরীর সদর রোড এলাকায় নির্বাচন বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুবসহ তার কর্মীরা। এসময় তিনি এজেন্ট বের করে দেয়া সহ জাল ভোট, জোর করে সিল মারার অভিযোগ করেন। এসময় ইসলামী আন্দোলন ও বাসদ প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগ কর্মীদের ত্রি-মুখী সংঘর্ষে এক সাংবাদিক আহত হয়। দুপুর ১২টার পর সকল মেয়র প্রার্থী লিখিত অভিযোগ নিয়ে সরওয়ার, মনীষার সঙ্গে নগরীর কাশিপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় যুক্ত হন জাপা প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস, ইসলামী আন্দোলনের মাওঃ ওবাইদুর রহমান মাহবুব ও কমিউনিস্টের আবুল কালাম আজাদ।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি