ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ

আর্থিক খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৮, ০১:২১
আর্থিক খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক এর বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আর্থিক লেনদেনে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহতভাবে উন্নীতকরণের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে পরামর্শ দেন তিনি।
 
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট-২০১৭’ এর মোড়ক উম্মোচন করেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রাতে পাঠানো এক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এর আগে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ রিপোর্ট প্রকাশ করার রীতি থাকলেও এবার অভ্যন্তরীণভাবে এ রিপোর্ট প্রকাশ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক।
 
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান, ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এসকে সুর চৌধুরী, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সল আহমেদ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটির নির্বাহী পরিচালক কাজী মনোয়ার হোসেন, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এর কোষাধ্যক্ষ এমএ হালিম চৌধুরী, বাংলাদেশ লিজিং এন্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এসএম ফরমানুল ইসলাম এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী আনিস এ খান ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটি ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল আর্থিক খাত প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক বদ্ধপরিকর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশে (প্রভিশনাল) উন্নীত হয়েছে যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালার যথাযথ পরিপালনে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান। একই সাথে রপ্তানি মূল্য প্রত্যাবাসন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পাদনের ওপর গুরুত্বরোপ করেন।
ডেপুটি গভর্নর বলেন, ২০১৭ সালে ব্যাংকিং খাতে সম্পদ এবং আমানতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। মূলধন পর্যাপ্ততা ন্যূনতম আবশ্যকীয় হারের চেয়ে বেশি ছিল।
 
ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু ব্যাংকে সাময়িক তারল্য চাপ অনুভূত হলেও সার্বিকভাবে তারল্য পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে ছিল। ব্যাংকিং খাতে সম্পদের গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। নতুন ঋণ ও আগাম প্রদানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে অধিকতর সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। মোবাইল ফোনে বা ই-মেইলে বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ পরিহার করার আহবান জানান তিনি।
 
আহমেদ জামাল ব্যাংকিং খাতে ঋণ পুঞ্জীভূতকরণ ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেন। তিনি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিও সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের ওপরও গুরুত্বরোপ করেন।
 
ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে সামষ্টিক অর্থনীতির অগ্রগতি, ব্যাংকিং খাতের কর্মদক্ষতা, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা,  বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি, আর্থিক ব্যবস্থার অগ্রগতি প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।