শিক্ষার্থীদের অবরোধে থমকে গেছে নারায়ণগঞ্জ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৪
নারায়ণগঞ্জের রেলপথ, সড়ক পথসহ সব ধরণের যান চলাচলের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে সকাল থেকে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
 
বুধবার সকাল থেকে ওই অবরোধ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসেও যুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও।
 
কুর্মিটোলায় বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা এবং এর প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এলে পুলিশের বর্বর হামলার প্রতিবাদে এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভ অবরোধ শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
 
এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবহন শ্রমিক নামধারী সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তারা হলো-সিজানুর রহমান, কাউসার আহমেদ, সজিব ও হৃদয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, তাদের আটক করা হয়নি। পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ছাত্ররা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে পরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে যান চলাচল শুরু হয়।
 
অবরোধের ফলে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সকল যান চলাচল বন্ধ থাকায় পুরো শহর ও শহরতলী অচল হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যান্য কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অবরোধে অংশ নেয়।
 
শিক্ষার্থীরা সিদ্ধিরগঞ্জ যাওয়া রাস্তা, সাইনবোর্ড লিংক রোডের রাস্তা, পাগলা, ফতুল্লা যাবার রাস্তা, শহরের নিতাইগঞ্জের দিকের রাস্তাসহ পুরো চাষাড়া চত্বর অবরোধ করে রাখে।
 
এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ট্রেন আটকে দেয়। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়র ও নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে।
 
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে মদনপুর পর্যন্ত এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে রূপগঞ্জের রূপসী পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে রাস্তায় বের হয়ে আসা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। শত শত যাত্রীকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হতে হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’ পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি