ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচেই চলতে পাঠদান

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৮, ২০:২৬
বরিশালের মুলাদীতে ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। উপজেলার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর তেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটির ছাদ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হলেও সেখানেই তাদের পাঠদান করতে হচ্ছে। মরণ ফাঁদে পরিণত হওয়া এ ভবনটি সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষাকরা বাধ্য হয়েই এ ভবনে পাঠদান করে যাচ্ছেন।
 
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে এ বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ ২৫ বছরেও এ ভবনটি কোনো সংস্কার না কারায় ভবনটির ছাদ ও দেয়াল খসে পরার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। আর এ ভবনেই শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ভবনে ক্লাস করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে, সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণি কক্ষে হাটু পানি জমে যায়। বৃষ্টির দিনে নিচে পানি আর উপরে ছাদ ভেঙ্গে পড়ার আশংকা নিয়ে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা। ফলে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
 
অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সন্তানদের শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠাতে হচ্ছে। কিন্তু যতক্ষণ সন্তানরা বিদ্যালয়ে থাকে ততক্ষণ দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হয়। অবিলম্বে এ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা ইউনুস বেপারী জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবহিত করেছি, তারা নতুন একটি ভবন নির্মাণের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সকল প্রক্রিয়া থেমে গেছে; ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে।
 
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
 
ইত্তেফাক/এএইচএস/বিএএফ