মোবাইলে রং নাম্বারে প্রেম করে বিয়ে করেছিল মুন্নি। কিন্তু প্রেমের সে বিয়ে তার কাল হয়ে দাঁড়ালো। আনোয়ার হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের প্রথম স্ত্রী রেহেনা আক্তার (২৫) ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী মিলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নি আক্তারকে (২২) নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে অপহরণের পর হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মুন্নির বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২নং জামুর্কি ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামে। তার বাবা নাম মো. রায়েজ আলী বেপারী এবয় আনোয়ারের বাড়ি নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ব্র্যাক্ষন্দী শ্রীনগর গ্রামে।
শুক্রবার মুন্নির বাবা মো. রায়েজ আলী বেপারী ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, মোবাইলে রং নাম্বারে আনোয়ারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে মুন্নির। মোবাইলে আনোয়ার তার প্রথম স্ত্রী রেহেনার কথা গোপন রেখে মুন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক জোড়ালোভাবে গড়ে তুলে। ৬ মাস ধরে চলে তাদের প্রেম দেয়া নেয়া। প্রেমের টানে শেষ পর্যন্ত মুন্নিকে তার বাপের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আনোয়ার পূর্বের স্ত্রীর কথা গোপন রেখে মুন্নি তার প্রথম স্ত্রী উল্লেখ করে কাবিন মূলে বিয়ে করেন।
রায়েজ আলী বেপারী আরো বলেন, গত ৯ জুন রেহেনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোর্টের দিকে রওনা দেয় মুন্নি। রাস্তায় রেহেনা ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মুন্নিকে কোর্টে না নিয়ে ট্রলারে উঠিয়ে রওয়ানা দেয়। নদীর মাঝপথে নিয়ে মুন্নির হাত-পা ও মুখের বাঁধন খুলে গেলে কৌশলে মুন্নি তার বাবার কাছে মোবাইলে ঘটনা খুলে বলে। এ সময় মুন্নি ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মুন্নির কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়। তারপর থেকে মেয়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।
খোঁজাখুঁজির পরও মুন্নিকে না পেয়ে মন্নির স্বামী আনোয়ারের বোন সহিতুন বেগম (৪০) বাদী হয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় গত ১৪ জুন অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৪/১৮৭। মামলার পর পুলিশ করিমুন, নুর জাহান, রেশমি ও কামাল হোসেনকে আটক করেছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজন আসামি মুন্নিকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মুন্নির লাশের কোন সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/এমএএইটি/বিএএফ
