‘আমার কথায় নুর ইসলামের ক্রস ফায়ার মাফ’

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৩২
‘আমার স্বামী নুর ইসলামকে আশরাফুল হক দোলন নামের এক চোরাচালানি মারপিট করে র‌্যাবের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন বলছে আমার কথায় ওর ক্রসফায়ার মাফ হবে। কিন্তু তার কাছে থাকা কিছু গোপন কথা বের করতে সাতদিন র‌্যাবের রিমান্ডে থাকতে হবে। তাকে কারেন্ট চার্জ দেওয়া হবে’। একই ব্যক্তি আবার বলেছে তাকে আমার কথামতো শনিবার সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা খুঁজে নিও।
 
গত চারদিনেও স্বামীর খোঁজ না পেয়ে রবিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন শহরের উত্তর পলাশপোলের নুর ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। তিনি বলেন, দোলন একজন বখাটে ও ভবঘুরে। একই সাথে সে নেশাখোর ও চোরাচালানি। বৃহস্পতিবার সকালে সে ও তার কয়েক সহযোগী নেশাখোর পলাশ, মনি ও বেল্লাল নুর ইসলামকে তার  ‘ফাতেমা স্টীল’ দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায়। উত্তর পলাশপোলের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে দরোজা বন্ধ করে তাকে বেদম মারপিট করে দোলনরা। তার নাক মুখ বেয়ে রক্ত পড়তে থাকে। খবর পেয়ে তাকে ছাড়াতে যায় পরিবারের লোকজন। কিন্তু না ছেড়ে দোলন তাকে র‌্যাবের হাতে তুলে দেয় সেদিন দুপুরে। 
 
তিনি বলেন, এরপর থেকে তার খোঁজ মিলছে না। দোলনের কাছে জানতে গেলে সে এক এক সময় এক এক রকম কথা বলছে। বলছে ‘আমার কথা মতো র‌্যাব কাজ করবে। কারণ নুর ইসলাম ফোন করে র‌্যাব এনে আগের দিন আমার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। অথচ  আমার বাড়িতে  কিছুই পায়নি’। তল্লাশির সময় মোবাইলে রেকর্ড করা একটি কন্ঠস্বর শোনানো হয়। এই কন্ঠস্বর নাকি নুর ইসলামের এই দাবি করে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে র‌্যাব তাকে (নুর ইসলামকে) আটক করেছে বলে জানায় দোলন। 
 
ফাতেমা খাতুন বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে আমার স্বামী কোনো দোষ করে থাকলে তাকে জেলে পাঠান। তার বিচার হোক। কিন্তু তাই বলে তাকে অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখা হবে তা হতে পারে না। তার শোকে আমার শাশুড়ি ও মা এখন পাগলপ্রায়। 
 
ফাতেমা বলেন, আমি খুলনায় র‌্যাবের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। বখাটে দোলন এখন ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বলছে ‘আমি  নুর ইসলামকে ক্রস ফায়ার থেকে বাঁচিয়ে দিলাম। তবে ওর মুখ থেকে আমার শত্রুর নাম বের না হওয়া পর্যন্ত সে আটক থাকবে। এখন তার ছোট ভাই সোনাকে আটক করতে হবে। তাকেও তুলে দেবো র‌্যাবের কাছে’।
 
ফাতেমা জানান, তিনি স্বামীর সন্ধান চেয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি জিডি করেছেন। তিনি তার স্বামীকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চেয়ে র‌্যাব ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। 
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নুর ইসলামের বোন মুন্নি আরা খাতুন, মা নুরজাহান বেগম, শাশুড়ি রিজিয়া খাতুন ও ভাই রেজাউল ইসলাম।
 
ইত্তেফাক/নূহু