বঙ্গোপসাগরে ২ টি ট্রলারসহ ৪০ জেলে অপহৃত

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৯
বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরনে নিয়োজিত জেলেবহরে হামলা চালিয়ে মুক্তিপনের দাবিতে ২টি ট্রলারসহ ৪০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। শনিবার রাত ১০টা থেকে রবিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচরের কাছাকাছি অফিস কিল্লা ও ডুবোজাহাজ এলাকায় এ দস্যুতা ও অপহরনের ঘটনা ঘটে। বনদস্যুরা “ছত্তার ভাই” বাহিনীর সশস্ত্র দস্যুরা জেলেদের অপহরণ করেছে বলে কোস্টগার্ড, বনবিভাগ, মৎস্যজীবী নেতা ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে।
 
মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিক সমিতির সূত্রে জানা যায়, দস্যুরা জেলে বহরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বহরে থাকা তুষখালী এলাকার ১০টি, বাগেরহাটের ১০টি, পাড়েরহাটের ১০টি, পাথরঘাটার ৭টি, বরগুনার ২টি ও শরণখোলার ১টি ট্রলার থেকে ১ জন করে ৪০ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। 
 
অপহৃত জেলেদের মধ্যে হারুন মাঝি (৪০), ফেরদৌস (৩৫), কামাল মাঝি (৪২), লোকমান মাঝি (৩৬), খালেক (৪৪), আলামিন (৩৪), জামাল (৩৫) এর নাম জানা গেছে। দস্যুরা জেলেদের পাশাপাশি এফ.বি. মরিয়মসহ দুইটি ট্রলার নিয়ে যায় বলে জানা যায়।
 
নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে শরণখোলার একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জেলেদের বরাত দিয়ে জানান, দস্যুরা দুটি ফিশিং ট্রলারে এসে জেলেদের ট্রলারে হানা দিয়ে ট্রলারে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুটে নেয়। এ সময় তারা এফ.বি. মরিয়মসহ জেলেদের দুটি ট্রলার ও কমপক্ষে ৪০ জেলেকে অপহরণ করে নেয়। এ ঘটনায় উপকুলীয় এলাকার মৎস্যব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে তারা জানান।
 
পাথরঘাটার মক্কা ফিসের সত্তাধিকারী ও মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন খান হিরু জানান, তার ২ ট্রলার থেকে জাকির ও জামাল নামের দুই জেলে অপহৃত হয়েছে। অপহৃত জেলেদের মুক্তিপনের জন্য দস্যুরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অন্য জেলেদের কাছে একটি মোবাইল নম্বর দিয়েছেন বলে তিনি জানান। 
 
বনবিভাগের দুবলা জেলে পল্লীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাদিক মাহমুদ জেলে অপহরনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
 
কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা অপহরনের খবর পেয়েছেন। কোস্টগার্ডের দুবলা, কচিখালী ও কোকিলমনি কন্টিনজেন্টের সদস্যদের সমন্বয়ে আগে থেকেই নিয়মিত টহল চলমান রয়েছে। এদিন দুপুর থেকে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে তাদের অভিযান শুরু হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু