রুশ আইনজীবির সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের সাক্ষাতের বিষয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ১২:৩৫
ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় রবিবার এক টুইটে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এক বিরোধী প্রার্থী সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রুশ আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে সে বিরোধী প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। এছাড়া তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারের বিষয়ে অবগত ছিলেন না তিনি। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের। 
 
খবরে বলা হয়, ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সময়ে রুশ আইনজীবী নাটালিয়া ভেসেলনিতস্কায়ার সঙ্গে ট্রাম্প টাওয়ারে সাক্ষাৎ করেছিলেন ট্রাম্প-পুত্র। ট্রাম্প শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তিনি ওই সাক্ষাতের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। কিন্তু প্রথমবারের মতো সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, সাক্ষাতটি ছিল এক বিরোধী প্রার্থীর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
 
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই সাক্ষাৎ আইনীভাবে সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আর এমনটা রাজনীতিতে সবসময়ই করা হয়। 
 
তবে পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ক আইন-বিরোধী ওই সাক্ষাৎ। মার্কিন আইন অনুসারে, প্রচারণার সময় বিদেশীদের কাছ থেকে অনুদান বা উপহার হিসেবে মূল্যবান পণ্য নেওয়া নিষিদ্ধ। এছাড়া, ওই সাক্ষাতটি এখন মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ক তদন্তের অংশভুক্ত। 
 
রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তের দায়িত্বে আছেন স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার। মার্কিন সংবিধানে, অপরাধের তালিকায় ‘গোপন আঁতাত’ উল্লেখিত নেই। তবে মুয়েলার তার তদন্তে বের করার চেষ্টা করছেন, ট্রাম্প শিবিরের কেউ রুশদের সঙ্গে কোন গোপন চুক্তি করেছিলেন কি না। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আইন ভাঙার জন্য ষড়যন্ত্রে  জড়িত থাকায় অপরাধ মামলা দায়ের করা হতে পারে।  এর মধ্যে রয়েছে, সাইবার হামলা চালিয়ে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা। 
 
ট্রাম্প শনিবারের টুইটে লিখেন, ট্রাম্প টাওয়ারে আমার চমৎকার ছেলের সাক্ষাৎকার নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এটা ভুয়া খবর, সম্পূর্ণ বানানো। এটা ছিল এক বিরোধী প্রার্থীর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে করা সাক্ষাৎ। সম্পূর্ণ বৈধ ও রাজনীতিতে এটা সবসময় করা হয়। আর তাতে কোন লাভও হয়নি।
 
তিনি তার টুইটের উপসংহার টানেন এই বলে যে, তিনি ওই সাক্ষাৎ সম্বন্ধে অবগত ছিলেন না। 
 
উল্লেখ্য, এই সপ্তাহান্ত ওয়াশিংটন পোস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেটাতে বলা হয় যে, ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ পুত্র ইচ্ছাকৃতভাবে আইন অমান্য করেছে। তিনি এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন যে, ট্রাম্প জুনিয়র সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে আইনী জটিলতায় আটকে গেছেন। আর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে মুয়েলারের তদন্তের অংশীদার হয়ে গেছেন। ট্রাম্পের শনিবারের টুইটটি ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
 
ইত্তেফাক/ জেআর