বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের উপজেলার ১২ জেলের ১৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি। ২১ জুলাই বরগুনার নিশানবাড়ি ঘাট থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে ভারত-বাংলাদেশ নৌ-সীমানার অদূরে মাছ ধরার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারসহ তারা নিখোঁজ হন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- রামগতি উপজেলার চরআলেকজান্ডার ইউনিয়নের উত্তর বালুরচর এলাকার মো. কানছন (৬৮) ও তার ছেলে মো. আবুল বাশার (১৯)। কমলনগর উপজেলার চরফলকন খায়েরহাট এলাকার আবু কালাম ওরফে আবু মাঝি (৪৯), তার ছেলে মো. জায়েদ (২৬), মেয়ের জামাতা মো. শরিফ (২৬), অপর জেলে মো. নুরুল ইসলাম (৬৯), মো. সেলিম (৩৫), মো. মাইন উদ্দিন (৩৩), মো. আবুল খায়ের (৬১), মো. ছালাউদ্দিন (৩১), মো. কালাম (৩৯), তোরাবগঞ্জ এলাকার মো. স্বপন (২৬)
নিখোঁজ আবু মাঝির ছেলে মো. রাসেল সোমবার রামগতি প্রেসক্লাবে ইত্তেফাককে জানান, তার পিতা আবু মাঝি বরগুনার নিশানবাড়ি ঘাটের ট্রলার মালিক আবুল কালামের এমবি মুহাম্মদ হোসেন-২ নামের মাছ ধরার ট্রলারের মাঝি ছিলেন। ওই ট্রলারে করে এলাকার ১২ জেলেসহ ১৭ জন জেলে নিয়ে গত ১৮ জুলাই নিশানবাড়ি ঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। ঘাট থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগরের ভারত-বাংলাদেশের নৌ-সীমানার কাছাকাছি তারা জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। ২১ জুলাই শনিবার সকালে তারা ঝড়ের কবলে পড়েন। এরপর থেকে তার পিতাসহ ট্রলারে থাকা এলাকার ১২ জেলে ও ট্রলারের অপর পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। ট্রলারটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ট্রলার মালিক আবুল কালাম বলেন, ২১ জুলাই ঝড়ের কবলে পড়ে তার ট্রলারসহ এলাকার ৮টি ট্রলার ডুবে ৬৫ জন জেলে নিখোঁজ হন। স্থানীয় ট্রলার মালিক সমিতির লোকজনসহ কয়েকটি ট্রলার নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে তারা সাগরে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান করেছেন। ওই সময় তিন জেলের লাশ ও তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও তার ট্রলারের ১৭ জেলেসহ অন্যদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার ট্রলারসহ ১৭ জেলে নিখোঁজের ব্যাপারে বরগুনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি কোস্টগার্ডকেও জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আবুল কালাম আরও জানান, ধারনা করা হচ্ছে নিখোঁজ জেলেরা আর বেঁচে নেই। তবে ভারতীয় নৌবাহিনী এবং ভারত ও বাংলাদেশের কোনো ট্রলারের জেলেরা নিখোঁজ কোনো জেলেকে উদ্ধার করেছেন কিনা ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সে বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। এদিকে স্বজন হারানো বেদনায় আহাজারি করছেন এসব পরিবারের লোকজন।
ইত্তেফাক/এনআই/জেডএইচ
