নানা সমস্যায় জর্জরিত ঝিনাইগাতীর কান্দুলী আশ্রয়নের বাসিন্দারা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২০:১৮
ঝিনাইগাতী উপজেলার কান্দুলী আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ আশ্রয়ন প্রকল্পে নারী-পুরুষ শিশুসহ প্রায় ৫শতাধিক লোকের বসবাস। অভাব, অনটন, দুঃখ আর দুর্দশাই এদের নিত্য দিনের সঙ্গী।
 
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের কান্দুলী গ্রামে সাড়ে ৭ একর সরকারি খাস জমির ওপর একটি পুকুরসহ ৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই ৬টি ঘরে ৬০টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে ১টি করে ছিন্নমূল ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।
 
আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মোঃ আজাহার আলী জানান, অনেক সমস্যার আবর্তে ছিল আশ্রয়ন প্রকল্পে ৬০টি পরিবার। কর্মসংস্থানের অভাবে ও জীবিকার সন্ধানে ৩০টি পরিবার পাড়ি জমিয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
 
শত অভাব অনটন, দুঃখ আর দুর্দশা বুকে চেপে রেখে ৩০টি পরিবার রয়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পে। বর্তমানে ওই ৩০টি পরিবারে রয়েছে কয়েক শতাধিক লোক।
 
আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা খলিলুর রহমান, ইয়ানুস আলী, মহির উদ্দিন শাহ আলম বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পটি নির্মানের পর কেউ আর তাদের খোঁজ খবর নেয়নি। সবাই দিন মজুরি করে পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বছরে ২/৩ মাস কৃষির ওপর শ্রম বিক্রি করে। বাকি সময় তাদের বেকার থাকতে হয়। সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা পায় না তারা।
 
আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো ভেঙ্গে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে আশ্রয়নের বাসীন্দাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় ঘরের মেঝেগুলো। এখানে বসবাসকারীদের যাতায়াতের রাস্তা নেই। নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় এখানে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। আশ্রয়নে প্রবেশের রাস্তাটি সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের কাজ করায় তা কোন কাজেই আসছে না আশ্রয়নের বাসিন্দাদের। ফলে বর্ষা মৌসুমে লোকজনের যাতায়াতে দুর্ভোগের পাশাপাশি শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। প্রকল্পের ভিতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। খাদ্যের অভাবে স্বাস্থ্যহীনতায় ভূগছে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ আশ্রয়নবাসীরা।
 
সরেজমিনে জানা গেছে তাদের এসব অবর্ণনীয় দুঃখ আর দুর্দশার কথা। এ আশ্রয়ন প্রকল্পে নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে দরিদ্র পরিবারের শিশু কিশোররা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা ও কথা হয় আশ্রয়নের বাসিন্দা খাদেম আলী, মর্জিনা বেগম, মুন্নাস, বারেক মিয়া, হারুন অর রশিদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাছে ভিজিডি কার্ড চাইতে গেলে তারা পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ চায়। দিতে না পারায় আশ্রয়নবাসীর ভাগ্যে জোটে না ভিজিডি কার্ড থেকে শুরু করে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা।
 
আক্ষেপ করে তারা বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের হাজারও সমস্যা সমাধানের জন্য বহু আবেদন নিবেদন করা হয়। কিন্তু ১৮ বছরেও এ আশ্রয়নের বাসিন্দাদের কোন সমাধান হয়নি। আশ্রয়নবাসীরা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। এসব বিষয় নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল বাদশার সঙ্গে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে উপরমহলে অবহিত করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু