সিলেটের গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলার চৌদ্দ বছর; আজো যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আহতরা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:০০
সিলেট নগরীর গুলশান সেন্টারে বহুল আলোচিত গ্রেনেড হামলার চৌদ্দবছর অতিবাহিত হলো মঙ্গলবার। কিন্তু এই মামলার বিচার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। অন্য মামলায় এ ঘটনার অন্যতম আসামি মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ সাহেদুল আলম বিপুলের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
 
২০০৪ সালের ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় গুলশান সেন্টারে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভার পর নেতৃবৃন্দ ঐ সেন্টার থেকে বের হওয়ার সময় শক্তিশালী গ্রেনেড হামলা করে জঙ্গিরা। এতে দলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ও তৎকালীন মহানগর সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, দলের নেতা ইব্রাহিম আলীসহ ২০ নেতাকর্মী আহত হন। পরে আহত ইব্রাহিম আলী মারা যান। আহতরা গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। 
 
ঘটনার পর প্রথমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরে মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। বর্তমানে আলোচিত এই মামলাটি বিচারাধীন। মামলার প্রধান আসামি জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয় দুজনের।
 
সিলেটের পিপি ও গ্রেনেড হামলায় আহতদের অন্যতম এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেছেন, ১৪ বছর পরও আজো আমরা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে সেদিন বিএনপি জামায়াত অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অন্য মামলায় ইতিমধ্যে দুই জঙ্গীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
 
এদিকে ৭ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রচার সম্পাদক নিহত ইব্রাহীম আলীর স্মরণে ইব্রাহীম স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার মসজিদে এক  দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এড. নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জুবের খান, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক  ডা. আরমান আহমদ শিপলু, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জামাল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
 
গ্রেনেড হামলায় আহতরা এখনো দেহে স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহনগর আওয়ামী লীগের সদস্য শওকত হোসেন জীবন। হামলার পর তিনি ১০ দিন ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। তারপর কিছুটা সুস্থ হলেও বিছনায় ছিলেন দুই বছর। এখনও তিনি বিছানায়ই পড়ে থাকেন অধিকাংশ সময়। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ঘরেই হাঁটাচলা করেন। পারিবারিকভাবে ২৪ লাখ টাকা খরচ করলেও আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি এই মুক্তিযোদ্ধা। 
 
মারাত্মক আহতদের মধ্যে আরেকজন হলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ জাকির হোসেন। প্রায় ১৯ দিন তিনি ছিলেন হাসপাতালের বেডে। নাভির ওপর থেকে বুক পর্যন্ত অপারেশন করতে হয় তা। সারা শরীরে ঘুরে আটকে আছে অসংখ্য স্প্লিন্টার। জ্বালা-যন্ত্রণা করে সবসময়। যখন তখন দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন এই অধ্যাপক।
 
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিনের স্মরণশক্তির মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারও শরীরে স্প্লিন্টারের মারাত্মক যন্ত্রণা। প্রায় এক মাস প্যারালাইজড ছিলেন তিনি। জানালেন, এখনও শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা। মাঝে মাঝে তা সহ্যের সীমাও ছাড়িয়ে যায়। এখনও শরীরে স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মফুর আলী, যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার ফয়জুল আনোয়ার আলাউর, সাংগঠনিক সম্পাদক এ টি এ জেবুল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য, নব নির্বাচিত কাউন্সিলর আজম খান, সাংবাদিক মুহিবুর রহমান প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/নূহু