কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের গায়ে কালিমা লেপন করেছে, নষ্ট করেছে; জামায়াত-বিএনপি-বাম আর নব্য সুশীলরা। সরকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সহনশীল এবং শ্রদ্ধাশীল ছিল বলেই তাদের সব দাবি সরকার আন্তরিকভাবেই মেনে নিয়েছে এবং সফল বাস্তবায়ন হচ্ছে। ওরা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেনি, আন্দোলন করেছে দীর্ঘদিনের একটি ভাঙাচোরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে; যেখানে আমরা সবশ্রেণির মানুষ দায়ি! ওরা চেয়েছিল সেই সিস্টেমটা পরিবর্তন করতে, যেখানে শেখ হাসিনা সরকার প্রথম থেকেই সহযোগিতা করেছে।
কিন্তু ওই জামায়াত-বিএনপি-বাম চেয়েছিল, যৌক্তিক আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দিতে। সাথে সাথে চলেছিল নব্য সুশীলদের অতিরঞ্জিত উস্কানি! এই গোষ্ঠী চেয়েছিল রক্ত, চেয়েছিল কয়েকটি লাশ! সেখানে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন উঠেপড়ে লেগেছে ছাত্রলীগের পেছনে। ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হয়েছে গত কয়েকদিন আগে। শুরু থেকেই ওরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি নিজে দেখেছি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে কিভাবে জামায়াত-শিবির-ছাত্রদল ঢুকে পড়েছিল। আমি নিজে হাতেনাতে গাড়ি-ভাঙচুর করা অবস্থায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সুলতান সোলায়মানকে ধরেছি। এই এরাই আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কার্যালয়ে হামলা করেছিল। এই ছাত্রলীগ সর্বোচ্চ সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রেখে ওই শিবির-ছাত্রদল অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, চেয়েছিল আরও বড় কিছু। কিন্তু ওরা পারেনি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবার সিদ্ধান্তের কারণে। ধন্যবাদ জানাই আমাদের কোমলমতি বন্ধুদেরকে। ছাত্রলীগ শুধু এই কোমলমতি বন্ধুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ছাত্রদল-শিবিরকে উপযুক্ত জবাব দিতে পারেনি।
আমি লক্ষ্য করেছি, ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়েই বলেছে, ‘আমার শিক্ষার্থী বন্ধুদের গায়ে কেউ হাত দিবেন না, ফল ভাল হবে না’! আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব জায়গায় ভয়ংকর গুজব ছড়িয়ে যখন বলা হলো আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কার্যালয়ে আন্দোলনরত ৪ জন ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে, দু'জনকে হত্যা করা হয়েছে, এক শিক্ষার্থীর চোখ তুলে নেয়া হয়েছে; তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছিল যুদ্ধংদেহী অবস্থায়। ওই ভয়ংকর অবস্থায় ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর কাছে যায়, তাদেরকে মিথ্যা-প্রোপাগাণ্ডা, ভয়ংকর গুজব সম্পর্কে বাস্তবচিত্র তুলে ধরবার চেষ্টা করে। মনে রাখবেন, ঠিক ওইসময়ে কিন্তু শিক্ষার্থীদের মাঝে শত শত শিবির-ছাত্রদল অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ওৎ পেতে ছিল। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বুঝতে চাইলেও অন্যান্যরা ছিল যুদ্ধংদেহি।
ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নেতৃত্ব দেয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীদেরকে অনুরোধ জানালো, তোমরা আমাদের সাথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে দেখে এসে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই আমরা মেনে নিব। শিক্ষার্থীরা সে কথা শুনতে নারাজ। পাশ থেকে শিক্ষার্থীদেরকে উস্কানি দিচ্ছে পোশাক পরিবর্তন করে কলেজ ড্রেস পরা চিহ্নিত ছাত্রদল-শিবির। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা রাজি হলো। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ এর সাথে দলীয় সভানেত্রী কার্যালয়ে গেল। সব পর্যবেক্ষণ করলো। এরপর শিক্ষার্থীরাই মিডিয়ার সামনে কথা বললো। তারা বললো, ‘একটা গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়ে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে, যা শুনেছি, তা আসলে সত্য নয়।’ এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে ঘরে ফিরে গেল।
আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দেখেছি, শাহবাগে গিয়ে কিভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে চকলেট-পানি খাওয়াইয়ে কিভাবে একাত্মতা পোষণ করেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগকেও দেখেছি, দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় ভাঙচুরের পরেও কতটুকু সর্বোচ্চ সহনশীল আচরণ করেছে তারা।
জামায়াত-বিএনপি-বাম- নব্যসুশীল এদের ছাত্রলীগের প্রতি গোস্যা এখানেই। ক্ষোভের কারণও একই। ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব এসেছে। 'ওই গোষ্ঠী' শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে পারেনি বলেই এখন উঠেপড়ে লেগেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ওরা শিক্ষার্থীদের লাশ চেয়েছিল! ওদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বকে বলবো, এই গোষ্ঠী কখনওই ছাত্রলীগের ভালো চায় না, এরা তোমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখবে। তোমাদেরকে সবসময় সচেতন থাকতে থাকতে হবে। ওরা চায়, শেখ হাসিনার হাতকে দুর্বল করতে; এজন্য ওরা ছাত্রলীগকেই টার্গেট করেছে। কারণ ওরা জানে, ছাত্রলীগের গায়ে কালিমা লেপনা করা গেলে, শেখ হাসিনার হাতকেও দুর্বল করা যাবে।
লেখক : সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
ইত্তেফাক/কেকে
