চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় গৃহবধূ হাসনা হেনা বিউটির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীসহ ৪ জনকে এজাহারভূক্ত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে নিহত বিউটির পিতা জাফর আহমদ বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার আধুনগর এলাকার মৃত দেরাজ মিয়ার পুত্র বিউটির স্বামী মোঃ শাকিব (২৮), শাকিবের মা ফাতেমা বেগম (৪৫), শাকিবের ভাই মোঃ তৌহিদ (১৯) ও শাকিবের বোন সাদিয়া বেগম (২৪)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শাকিবের সঙ্গে বিউটির প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ২০১৭ সালের ২ জুন তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা উপজেলা সদরের দরবেশহাট সড়কের ফোরকান টাওয়ারের ভাড়া বাসায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী শাকিব স্ত্রী বিউটির কাছ থেকে ব্যবসার জন্য ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। বিউটি দাবি পূরণে অপরাগতা প্রকাশ করলে স্বামী শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এরই মধ্যে বিউটি গত ১৫ জুলাই একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়।
সন্তান জন্মের পর থেকে বিউটির শাশুড়ী ফাতেমা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে দাবিকৃত টাকা আনতে না পারলে ছেলেকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। ঘটনার দিন গত ৭ আগস্ট ভোরে হত্যার উদ্দেশ্যে স্বামী শাকিব তার স্ত্রী বিউটিকে বিষাক্ত পদার্থ জোরপূর্বক খাইয়ে দেয়। ফলে বিউটির মৃত্যু হয়। বিউটি উপজেলা সদরের দরবেশ হাট এলাকার জাফর আহমদের কন্যা।
বিউটির পিতা জাফর আহমদ জানান, আসামিরা আমাদের বিউটির মৃত্যুর খবর না জানিয়ে কৌশলে লাশ দাফনের চেষ্টা করে। জাফর আহমদ খবরটি পেয়ে এলাকার লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় শ্বশুর বাড়ি এলাকার কবরের পাশ থেকে বিউটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময়ে পুলিশ স্বামী মোঃ শাকিবকে আটক করে। তিনি আরো জানান বিউটিকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায় নির্যাতন করতো। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্বামী শাকিব জানান, ঘটনার দিন সকালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাথরুমে থাকা টয়লেট ক্লিনার পান করে বিউটি। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গৃহবধূ হাসনা হেনা বিউটির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বামীকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
