বানারীপাড়ায় এক ছাত্রীর ৫ মাসের মাথায় দুইবার বাল্য বিবাহ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫৭
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ফাজিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে মাত্র ৫ মাসের মধ্যে দুইবার বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ওই ছাত্রীর বাবা মোঃ বাদল মিয়া পশ্চিম লবনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে পেশায় একজন শ্রমিক।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ মাস আগে বাদল মিয়া তার মেয়েকে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের মোঃ বাদশা সিকদারের ছেলে মোঃ ইমরান সিকদারের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরামর্শে বিয়ে দেয়। পরে মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ি না পাঠিয়ে কয়েক মাসের মাথায় ডিভোর্সের কাগজ পাঠায় জামাতার বাড়িতে।
 
এলাকাবাসী জানান, বাদলের পরিবার তাদের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে গত কয়েকদিন আগে পিরোজপুর জেলার স্বরুপকাঠি উপজেলার মাগুরা গ্রামের মোঃ হিরণ নামের এক ছেলের সঙ্গে পুনরায় বিয়ে দেয়। এ নিয়ে ওই এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
 
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হুমাযুন কবির জানান, নাবালক মেয়েটিকে প্রথম বিবাহ দেওয়ার সময় সেসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিরা বারবার নিষেধ করেছিল। তারপরেও ওই পরিবারটি গোপনে তাদের মেয়েকে বিয়ে দেয়। সেখান থেকে স্বর্নালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালপত্র হাতিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করিয়ে পুনরায় মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়া হয়।
 
এদিকে প্রথম স্বামী ইমরানের পরিবার দাবি করে, মেয়ের পরিবার থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। বিচ্ছেদ হলেও বিবাহের সময় তাদের পক্ষ থেকে মেয়েকে দেওয়া স্বর্ণলংকারসহ অন্য মালামাল ফেরত দেয়নি মেয়ের পরিবার।
 
এসব বিষয়ে জানতে সরেজমিনে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ মেয়ের বাড়িতে গেলে আগে থেকেই সংবাদ পেয়ে তারা ঘরে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে।
 
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খলিলুর রহমান জানান, বিষয়টি তারা জানতে না পারায় বাল্য বিয়ে বন্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি।
 
ইত্তেফাক/নূহু