বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘটে আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্য বিঘ্নিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৈরী পোশাক শিল্প।’ বুধবার সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক অবস্থা ও ঈদুল আজহার প্রাক্কালে চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন খুবই ইতিবাচক। কিন্তু এর কারণে পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের আমদানী ও রপ্তানী পণ্য পরিবহন করা যায়নি। আমদানীকৃত পণ্য বন্দর থেকে খালাস করা সম্ভব হয়নি এবং রপ্তানী পণ্য জাহাজীকরণের জন্য সময়মত বন্দরে পৌঁছানো যায়নি। এতে একদিকে কারখানার উৎপাদনশীলতা ব্যহত হয়েছে অন্যদিকে রপ্তানীর জন্য পণ্য প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। এসব পণ্য যথাসময়ে জাহাজীকরণে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট দিতে হবে এবং অধিক ভাড়ায় বিমানযোগে পাঠাতে হবে।
বিজিএমইএর এই নেতা বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই প্রতিবাদ’ ও ‘পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের’ সাত দিনের মধ্যে ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১ হাজার ১৬৮ বক্স কনটেইনার রেখেই পাঁচটি জাহাজ চলে গেছে। ফেলে যাওয়া কনটেইনারের বিপরীতে ক্রেতারা ডিসকাউন্ট ও এয়ার শিপমেন্ট চাইছে।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভায় বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী রপ্তানির ক্ষেত্রে সপ্তাহে সাত দিন বন্দর, কাস্টম, ব্যাংক, বিমাসহ লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করেছেন। বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। বে টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। এগুলোর কাজ শেষ হলে বন্দরের সক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি বাণিজ্যে গতি পাবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্য বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস, পরিচালক মো. সাইফ উল্লাহ, কাজী মাহাবুবউদ্দিন জুয়েল, আমজাদ হোসেন চৌধুরী।
ইত্তেফাক/নূহু
