মির্জাপুরে চলন্ত বাসে শিউলী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় কেউ আটক হয়নি ৭ দিনেও

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩৩
মির্জাপুরে চলন্ত বাসে গার্মেন্টসকর্মী শিউলী ধর্ষণ  ও হত্যার ঘটনায় ৭ দিন পার হয়ে গেলেও কেউ আটক হয়নি। কিন্তু পুলিশ বলছে হত্যার ঘটনায় জট খুলতে শুরু করেছে।
 
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মির্জাপুর থানার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকটি বাসের চালকসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। জিজ্ঞাসাবাদে বেশ গুরুত্বপুর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তদন্তে সঠিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পুলিশ তথ্য প্রকাশ করতে অপারগতা জানিয়েছে।
 
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন আপনাদের ভালো খবর দিতে পারবো। আমাদের একটু সহযোগিতা করুন। গত কয়েক দিন ধরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
 
এর আগে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে শিউলী হত্যা মামলার রেকর্ড হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন শিউলীর স্বামী মো. শরিফ খান।ডিআইজি মির্জাপুর থানা পরিদর্শনে এসে সংবাদ কর্মীদের কাছে বলেছিলেন, যারা শিউলীকে হত্যা করেছে সিসি ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজনে পেশাদার তদন্তকারী সংস্থা, র‌্যাব, সিআইডি, হাইওয়ে পুলিশ ও ডিবির সহায়তা নিয়ে ঘাতক বাস, চালক ও তার সহযোগী এবং শিউলীর ওপর যারা পাশবিক নির্যাতন করেছে তাদের গ্রেফতার করা হবে। কোন অবস্থায় ঘাতকদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন। 
 
আজ বুধবার মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই চলন্ত বাসে শিউলী আক্তারকে (২৬) ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঐ দিন সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় বর্বর এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটে।
 
পুলিশ সূত্র জানায়, শিউলী আক্তারের স্বামীর নাম মো. শরিফ মিয়া। বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ আলেফ খান, বাড়ি একই উপজেলার রোয়াইল গ্রামে। 
 
শিউলীর পারিবারিক সূত্র জানায়, শিউলী গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কম্পিট কম্পোজিট গার্মেন্টসে হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে গার্মেন্টসে যাওয়ার জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চরপাড়া নামক স্থানে এলে তাদের ভাড়া করা বহনকারী বাস এসে দাঁড়ায়।শিউলী ভুলক্রমে তার আইডি কার্ড বাড়িতে রেখে আসায় ঐ বাসে না উঠে বাড়ি চলে যান।বাড়ি গিয়ে আইডি কার্ড নিয়ে এসে রাস্তার পাশে দাঁড়ায়। এ সময় টাঙ্গাইল থেকে কালিয়াকৈরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে থামানোর জন্য হাত দিয়ে ইশারা করলে বাসটি থামে।
 
শিউলী বাসে উঠে দেখতে পান অন্য কোন যাত্রী নেই। এই সুযোগে বাসের হেলপার ও সুপারভাইজারসহ কয়েকজন মিলে শিউলীকে বাসের মধ্যে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিউলী বাসের মধ্যে 'বাঁচাও বাঁচাও' বলে চিৎকার করলেও ধর্ষণকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। বাওয়ার কুমারজানি নামক স্থানে বাসটি এলে কয়েকজন মহিলা চিৎকারের শব্দ শুনে ছুটে আসে। এ সময় ধর্ষকরা শিউলীকে হত্যার পর বাস থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
 
এ সময় পিছন দিক থেকে আসা অপর একটি বাস শিউলীর শরীরের ওপর দিয়ে গিয়ে তাকে পিষ্ট করে দেয়! আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লাশটি দেখতে পেয়ে হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে গোড়াই হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়। 
 
শিউলীর অসহায় পরিবার যাত্রীবাহী বাসটি আটক ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
 
লাশ ময়না তদন্তের পর দাফন করা হয়েছে। শিউলীর দুটি পুত্র সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছে অসহায় পরিবার। এদিকে কম্পিট কম্পোজিট গার্মেন্টসের জেনারেল ম্যানজের মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, শিউলীর অসহায় পরিবারকে তাদের কোম্পানীর পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
 
এদিকে ঘটনার ৭ দিন পার হলেও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় মা সিএনজি পাম্প ও ধেরুয়া এলাকায় নাসির গ্রুপের ফ্যাক্টরীর সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন কয়েকটি বাসের চালকসহ বেশ কয়েকজন আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেশ গুরুত্বপুর্ন তথ্য পাওয়া গেলেও সঠিক সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
 
ইত্তেফাক/নূহু