যশোরের বাঘারপাড়ায় তফসির মোল্যা (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার ভোররাতে বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের নিজবাড়ির বারান্দায় ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ‘রাজাকার’ আমজাদ হোসেনের মামলায় সাক্ষ্যদান সংক্রান্ত ঘটনায় তাকে খুন করা হয়েছে।
হত্যার প্রতিবাদে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে যশোর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নিহতের স্বজনরা। এরপর প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই এবং মানবতাবিরোধী মামলায় অভিযুক্ত ‘রাজাকার’ আমজাদ হোসেনের মামলার সাক্ষী ইয়াহহিয়া রহমান জানান, মামলায় সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করে আমজাদের ছেলে খোকন ও তার বাহিনী। তারা শাসায়, ‘সাক্ষ্য থেকে ফিরে না এলে তার বংশে বাদী হওয়ার মতো কাউকে রাখা হবে না।’ কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় তার ভাইকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। রাতে তার ভাই নিজবাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাতে সন্ত্রাসীরা তাকে গলা কেটে হত্যা করে।
এ হত্যাকাণ্ডে খোকন ও তার বাহিনীর সদস্য জাহিদুল, টুটুল মন্ডল, জুলফিকার, মানিক, আলম, আশিক, শহিদুল, মনির, তোরাব জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরো জানান, কয়েকমাস আগেও তারা ভাই খালেক ও ভাইপো জহিরকে দুই দফা ব্যাপক মারধর করে। তারা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাও নিয়েছেন।
বন্দবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান বলেন, ‘আমজাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা হওয়ার পর থেকেই দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল চলে আসছে। দুই মাস আগে ওই পক্ষের জবেদ আলী নামে একজন খুনও হয়। তফসির হত্যাকাণ্ড তারই ধারাবাহিকতা বলে স্থানীয়দের ধারণা।’
বাঘারপাড়া থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা কেনো এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
ইত্তেফাক/নূহু
