যশোরের সম্ভাবনাময় মোটর গাড়ির কাঠামো তৈরি শিল্প

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০১:৫৮

যশোর শহরের মণিহার, আরএন রোড, মুড়লী, বকচর, হুশতলা ও চাঁচড়া চেকপোস্ট সংলগ্ন বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গড়ে উঠেছে যশোর অটোমোবাইল ও বডি বিল্ডার্স (মোটর গাড়ির আসনসহ কাঠামো নির্মাতা) ওয়ার্কশপ। অনেকটা সেকেলে প্রযুক্তিকে নির্ভর করে গড়ে ওঠা এই সেক্টরটি বর্তমানে যশোরের অন্যতম সম্ভাবনাময় সেক্টরে পরিণত হয়েছে। এসব ওয়ার্কশপের শ্রমিকরা সারাদিন ব্যস্ত থাকেন জরাজীর্ণ গাড়ি মেরামতের কাজে।

এখানকার কারিগররা মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে জরাজীর্ণ একটি গাড়িকে ঘষেমেজে ঝকঝকে তকতকে করে ছেড়ে দেন রাস্তায়। নতুন চেহারা নিয়ে রি-মডেলিং এসব গাড়িগুলো আবার রাস্তায় নেমে পড়ছে। এখানকার শ্রমিকরা চোখে দেখেই যেকোনো মডেলের কাঠামোসহ অন্যান্য অংশ তৈরি করতে সক্ষম। পুরনো জরাজীর্ণ গাড়ির চ্যাসিসে নতুন করে সংযোজন করা কাঠামো কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত টেকসই হয়। তাদের রি-মডেলিং করা ১৯৬২ সালের গাড়ি এখনও রাস্তায় চলছে বলে দাবি করেন এখানকার কারিগররা।

বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াই এখানকার ওয়ার্কশপ   শ্রমিকরা গুরু-শিষ্য পরম্পরায় এ বিষয়ে অর্জন করেছেন অসাধারণ দক্ষতা। ফলে দারুণভাবে বিকশিত হয়েছে এখানকার অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ শিল্প। অথচ শিল্পটির বিকাশে নেই কোন সরকারি সহায়তা। এগিয়ে আসেনি ব্যাংক বা অর্থলগ্নিকারী কোনো প্রতিষ্ঠানও।

যশোরের অটোমোবাইল ও বডি বিল্ডার্স সেক্টরের ব্যাপক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বছরে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব বলে মনে করেন এই সেক্টরের কারিগররা। এজন্য দরকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিকরা বলেছেন, প্রয়োজনীয় ব্যাংক ঋণ আর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে এই সেক্টরে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সৃষ্টি হবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।

বকচরের শাহিন অটোমোবাইল ওয়ার্কশপের মালিক ও বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিন কবীর জানান, একটি হিনো বাসের কাঠামো ঢাকায় তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। কিন্তু যশোরে সেই কাঠামো তৈরি করতে খরচ হয় সাত থেকে আট লাখ টাকা। টাটা গাড়ির কাঠামো তৈরিতেও ঢাকার চেয়ে যশোরে খরচ অন্তত পাঁচ লাখ টাকা কম পড়ে।

যশোর অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির নেতা জমির হোসেন বলেন, চমত্কার ফিনিশিং আর নজরকাড়া ডিজাইনের কারণে দেশের সব নামিদামি গাড়ির মালিকরা তাদের গাড়ির কাঠামো তৈরি করতে ভিড় জমাচ্ছেন যশোরের ওয়ার্কশপগুলোতে।

প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল আগে যশোরে মোটরগাড়ি মেরামতের কাজ শুরু হয়। অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির কর্মকর্তাদের মতে, যশোরে এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।

তবে যশোরে এই শিল্পটি গড়ে উঠেছে প্রধান সড়কের ধারে আবাসিক এলাকায়। এটাও এ শিল্পটির বিকাশের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা বলে মনে করেন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও খুবই অসুবিধা হয়।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ ও শিল্পপার্ক স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই খাতে যদি আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানো যায় তাহলে দেশের অটোমোবাইল সেক্টরে বিপ্লব সাধিত হবে।

ইত্তেফাক/নূহু