নীলফামারী ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী বাজার এলাকায় রাতের আঁধারে পাচারকালে ভিজিএফের ২৪৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাল পাচারকালে স্থানীয়রা বস্তাভর্তি একটি ট্রাক্টর আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে সেগুলো উদ্ধার করে ডোমার থানায় নিয়ে যায়।
জানা গেছে, পাচারকালে আটককৃত ২৪৬ বস্তা চাল প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে ছিল। এতে চালের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৮ মেট্রিকটন। যার বাজার মূল্য দুই লাখ ৮৯ হাজার ২৯৬ টাকা।
সূত্র মতে, সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ঈদুল আজহার আগে ভিজিএফ কার্ডধারীরা এবার ১০ কেজির পরিবর্তে ২০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে। নীলফামারী জেলার ছয় উপজেলার ৬০ ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৫ কার্ডধারী পরিবারের জন্য ৮ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া। এর মধ্যে ধর্মপাল ইউনিয়নের জন্য ৬ হাজার ৩৭৫ কার্ডের বিপরীতে ১২৭ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে ইউপি চেয়ারম্যান ওই চাল জলঢাকা খাদ্য গুদাম হতে উত্তোলন করেন।
ধর্মপাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাসুদ বলেন, দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফসহ বিভিন্ন সরকারি উপকরণ বিতরণে চেয়ারম্যান অনিয়ম ও কালো বাজারে বিক্রি করে। এজন্য এলএসডি গোডাউন হতে জামিনুর চেয়ারম্যান যখন ভিজিএফের চাল উত্তোলন করে আমরা এলাকাবাসী অনুসরণ করি। বৃহস্পতিবার রাতে দুটি চালের ট্রলি ইউনিয়ন পরিষদে না নিয়ে পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলায় নিয়ে যাওয়ার সময় বোড়াগাড়ি হাটে ট্র্যাক্টটি আটক করে পুলিশে খবর দেই। পুলিশ ট্রাক্টরটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ডোমার থানার এসআই মো. মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে আমরা বোড়াগাড়ি হাট হতে ২৪৬ বস্তা ভর্তি একটি ট্রাক্টর আটক করে থানায় নিয়ে আসি।
এ ব্যাপারে ধর্মপাল ইউপি চেয়ারম্যান জামিয়ার রহমান চাল পাচারের অভিযোগটি অস্বীকার করে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ১ হাজার ৪৭৫ কার্ডের বিপরীতে চাল বিতরণ করেন ২৯ দশমিক ৫ মেট্রিকটন।
জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
