গাংনীতে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ২২:৫০

গাংনীতে লিপিয়ারা খাতুন(২৭) নামের একটি সেরকারী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্বামী। লিপিয়ারার পরিবারের লোকজনের পক্ষ থেকে এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

লিপিয়ারা খাতুন গাংনী পৌরসভা এলাকার চৌগাছা বোরিংপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মোজাম্মেল হকের মেয়ে। তিনি কুষ্ঠিয়া মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স। এই ঘটনার পর লিপিয়ারা খাতুনের ঘাতক স্বামী একই উপজেলার চেংগাড়া গ্রামের সামাদুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন আত্মগোপনে রয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার সময় চেংগাড়া গ্রামের বাসস্ট্যান্ড পাড়া এলাকায় লিপিয়ারার স্বামীর ঘর থেকে ঝুলন্ত অকস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিপিয়ারার ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, বছর খানেক আগে আমার বোন লিপিয়ারার সঙ্গে চেংগাড়া গ্রামের ইনামুল হকের ছেলে সামাদুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক হিসাবে দিলেও অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে নির্য়াতন অব্যাহত রেখেছিল।

এক পর্যায়ে নির্যাতন নিপীড়ন সইতে না পেরে তার স্বামী সামাদুল ও তার মা সামেনা খাতুনের নামে মেহেরপুর আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা করে। মামলা তুলে নিতে আমার বোনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মোবাইর ফোনে ডেকে নিয়ে ঘরে বন্দী করে রেখে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, প্রতিবেশীদের খবরে বোনের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, পরে মেয়ের পরিবারের লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লাশ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে একদিন পর লাশ দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়। হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বলা যাবে।

ইত্তেফাক/নূহু