চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবায়নাধীন সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। তবে সচেতনতার বিকল্প নেই। হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পর যদি যত্রতত্র গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিন ফেলেন তাহলে এমন প্রকল্প দিয়েও কাজ হবে না।’
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সম্মেলন কক্ষে রবিবার দুপুরে এ সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমরা সবাই এ দেশকে নিয়ে গর্ভ করি। বিদেশে গেলে আমরা সোজা হয়ে যাই। এখানে বাঁকা পথে চলি। এভাবে হয় না। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে দুর্ভোগ, দুর্ঘটনা কমে যাবে।’
প্রকল্পের মনিটরিং কমিটির প্রধান মোশাররফ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, ‘এটা একটা মেগা প্রকল্প। কিছু কাজ আমরা করছি। কিছুটা সিটি করপোরেশন ও ওয়াটার ডেভলপমেন্ট বোর্ড করছে। এটার একটা মেয়াদ আছে। যেভাবে সেনাবাহিনী কাজ করছে চট্টগ্রামের যে দুঃখ- জলাবদ্ধতা, এটা ইনশাল্লাহ সমাধান হবে। সেটার ব্যবস্থা নিয়ে আমরা নেমেছি। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ভালো ফল মিলবে।’ তিনি প্রকল্প শেষ হওয়ার পর অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মাত্র এক শতাংশ অর্থের কাজ শুরু হয়েছে। ওই টাকায় যা কাজ হবে তার মাত্র ১০ শতাংশ কাজ এখনো পর্যন্ত শেষ হয়েছে। প্রথম ডিপিপিতে ৩৬টি খাল রেখছি। পরিষ্কার করা, খনন, দখলমুক্ত, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, একপাশে রাস্তা, সিল্ট ট্রেপ, নিচু ব্রিজ-কালভার্ট উঁচু করা এবং এ সংশ্লিষ্ট সব ইউটিলিটি লাইন উঁচু করা হবে।’
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বন্দরের হাইড্রোগ্রাফার শামসুল আরেফিন প্রমুখ।
ইত্তেফাক/আরকেজি
