বিদ্যালয়সংলগ্ন খালে জোয়ার এলেই পানি ঢোকে। ভেসে যায় বিদ্যালয়ের মাঠসহ আশপাশের রাস্তাঘাট। সেই জলমগ্ন পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের। পিরোজপুরের কাউখালী সদর ইউনিয়নের কাজী হারুনুর রশীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন অবস্থা প্রায় নিত্যদিনের।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রচনা মালোর বক্তব্য, ‘আমাগো স্কুলের পাশে রাস্তাঘাট নিচু। রোজ খালে জোয়ার আইলে স্কুলের চারদিক ডুবে যায়। জোয়ারের পানিতে তলাইয়া যায় সব। জলে কাদায় চলতে আমাগো কষ্ট অয়।’
আজ সোমবার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলমান থাকায় প্রথমার্ধের পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরতে হাঁটুজল ভাঙ্গতে হয়েছে। গতকালের চিত্রও একরকম ছিল। বন্দরের ওপর এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতি বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে প্লাবিত হয়ে থাকে। ফলে ৫ থেকে ১০ বয়সী ছোট শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় প্রায়ই। মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনার আশংকায় সব সময় থাকেন অভিভাবকেরা।
অনেক সময় সকালের জোয়ারে প্লাবিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছে।
গত অর্থ বছরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মুখভাগ ভরাটের জন্য ১ মেট্রিক টন টিআর বরাদ্দ করা হয়েছিল। তা দিয়ে কিয়দাংশ বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত অপ্রতুল। মাঠটি সম্পূর্ণ ভরাট করা না গেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অন্যদিকে জমিটা কিছুটা নিচু জমি হওয়ায় নতুন অবকাঠামো নির্মান করা হলে তার ভিটি উচু করে নির্মাণ করতে হবে।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কাউখালী সদর ইউনিয়নের কাজী হারুন অর রশীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে ১৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা অত্যন্ত নিচু হওয়ায় জোয়ারের পানিতে সব ডুবে যায়।
কাউখালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার জসীম আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত আছি। স্কুলটি নিচু জমিতে। চারপাশে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন।’
উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আহসান কবীর বলেন, ‘স্কুলটি পরিদর্শন করে সেখানে মাটি ভরাটের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু
