নিষিদ্ধ ওষুধে চলছে কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৬:১৬
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। এবার দুই উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে একাধিক পশুর হাট বসছে।
 
বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার গোখামারী ও সাধারণ গৃহস্থরা তাদের পালিত পশুগুলো বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন। এসব পশুগুলোর অধিকাংশই ভেকসিন দিয়ে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গোখামারীও গৃহস্থরা অধিক লাভের আশায় ভয়াবহতা জেনেও গোপনে তাদের পালিত পশুগুলোকে মোটাতাজাকরণে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করেছেন। 
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের বাড়ি ও গো-খামারে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারো নিষিদ্ধ ওষুধ ও ভেকসিনের মাধ্যমে চলছে গরু মোটাতাজাকরণ। অর্থলোভী কিছু অসাধু ব্যক্তি ও খামার মালিক এসব গরু দ্রুত মোটাতাজা করতে সরকারের নিষেধ অমান্য করে ভারতীয় নিষিদ্ধ স্টেরয়েড গ্রুপের ক্ষতিকারক ওষুধ গরুকে সেবন করাচ্ছে। 
 
এদিকে অভিযোগ আছে, স্থানীয় প্রাণী সম্পদ বিভাগ গরু মোটাতাজাকরণে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার বন্ধে কোনো ভূমিকা রাখছে না। ক্ষতিকারক ওষুধ দিয় মোটাতাজা করা গরু চিহ্নিত করতে পশুর হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার জন্য সচেতন মহল থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে। 
 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের গরু পালনকারীরা তাদের গরুগুলোকে মোটাতাজাকরণে স্টরয়েড গ্রুপের ক্ষতিকর ঔষধ ব্যবহার করে আসছেন। এসব ওষুধে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহে গরু মোটাতাজা করা সম্ভব। তবে মেয়াদের মধ্যে মোটাতাজা করা গরুগুলো বিক্রি কিংবা জবাই করা না হলে পরবর্তী বছর সেটাকে পুনরায় মোটাতাজা করা সম্ভব হয় না। এমনকি যেকোনো সময় সেটি মারাও যেতে পারে। 
 
ক্ষতিকর স্টরয়েড ব্যবহারে পশু দ্রুত মোটাতাজা হলেও বিভিন্ন রোগব্যাধি তার মধ্যে জন্মায়। আর এসব গরুর মাংস খেলে মানবদেহে কিডনি, লিভার, ও হৃদপিণ্ডসহ শরীরে নানাবিধ সমস্যা এবং ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 
 
বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার কতিপয় পশু চিকিৎসক, এক শ্রেণির অসাধু ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে গরু মোটাতাজাকরণে চোরাই পথে আসা ভারতীয় এসব ভেকসিন বা ওষুধ চুক্তির মাধ্যমে দিয়ে থাকে। গরু মোটাতাজা হওয়ার পরিমাণে অথবা বিক্রি মূল্যের উপর নির্ধারণ করে এসব অসাধু চিকিৎসক ও ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা হয়। 
 
প্রাণী সম্পদ বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক জানান, স্টেরয়েড গ্রুপের এ সকল ওষুধ সেবনের কারণে পশু দ্রুত মোটাতাজা হলেও কম সময়ে রোগাক্রান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ফলে এসব ওষুধ সেবনকারী পশুগুলোর কম সময়ে কিডনি, যকৃত, ফুসফুস, কলিজা ও মাংস নষ্ট হয়ে যায়। এসব পশুর মাংস মানুষের জন্যও নিরাপদ নয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 
 
বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগররে দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি না করার জন্য ফার্মেসিগুলো প্রাণী সম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে। বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আসা খামারীদের গবাদীপশুর মধ্যে যদি এ ধরণের আলামত পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়গুলো দেখার জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা ভ্যাটনারি সার্জনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ