জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহদাতবার্ষিকী ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা, আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় গুলিস্থানের ঢাকা মহানগর নাট্ট্যমঞ্চের কাজী বশির উদ্দিন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, আগস্ট মাসকে ঘিরেই ষড়যন্ত্র হয়। আজও অনেকেরই লাফালাফি দেখছি। গণফোরাম সভাপতি ও এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা ড. কামাল হোসেনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুগে যুগে এরা আছে। যুবলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান এদের মুখোশ খুলে দানবীয় চেহারাটা বাংলার জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে অলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এবং প্রধান বক্তা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বক্তব্য দেন।
বঙ্গবন্ধুর সময়ের কথা তুলে ধরে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সব ভুলে গিয়ে বঙ্গবন্ধু, ড. কামাল হোসেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। কিউবায় পাটের বস্তা রপ্তানি করার জন্য ৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরিকিসিঞ্জার যখন গমের জাহাজ ঘুরিয়ে দিলো তখন ড. কামাল হোসেনের উচিৎ ছিল তার বিরুদ্ধে কথা বলার। কাপুরুষ, উনি আর কি বলবেন। আজকে উনি হামকে বেটা রাব্বানা হয়েছেন। হ্যান কারেঙ্গা ত্যান কারেঙ্গা বলছেন।
IMG0
তিনি বলেন, মনে রাখাবেন আজকের বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের বাংলাদেশ। আজকের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা ইস্যুকে কোন কথা না বলায় ড. কামালানের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে উনার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হয়না, আজকে উনি গর্ত থেকে মুখ বের করেছেন। এ সময় তিনি সাবেক প্রধান বিচার প্রতি এসকে সিনহারও সমালোচনা করে বলেন, উনি নাকি কি রহস্য ফাঁস করবেন। করেন, আপনি যা পারেন করেন। শেখ হাসিনা দীপ্ত ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে এই বিদেশিদের পা চাটারা টিকবে না। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে যুবলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, নতুন সাজে নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে শয়তানের দল তারা ভুল করলেও ক্ষমা চায়না। বিএনপিকে দিয়ে আন্দোলন হবে না। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে গুজব ছড়িয়ে। নির্বাচন নিয়ে করা বক্তব্যের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সমালোচনাও করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের যে চক্রান্ত তা এখনও শেষ হয়নি। এই চক্রান্ত চলছে। জনগণের ক্ষমতায়নই পারে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। জনগণের সম্মিলিত শক্তি অজেয়।
IMG1
তিনি আরও বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্টের চক্রান্ত ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে, বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিলীন করা। বাংলাদেশকে আরেকটা পাকিস্তান বানানো। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যদি ১৯৮১ সালে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে না আসতেন, তাহলে আজ হয় তো এদেশই থাকতো না। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তার বিশ্বশান্তির দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক সমৃদ্ধ রাষ্ট্রবিনির্মাণ করছেন। বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যে ১৯৭১ এবং ১৯৭৫ এর পরাজিত শক্তি আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিশ্চয়ই এদেশের মানুষ এই ষড়যন্ত্রও রুখে দেবে।
যুবলীগ নেতাকর্মীদের অনলাইনে আরও স্বক্রিয় হয়ে গুজবের বিরুদ্ধে লাড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী সহকারী একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর। তিনি বলেন, তারা আজকে অনলাইনের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছাড়াচ্ছে। এজন্য আমি বলবো প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সেল গঠন করে অনলাইনে এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। এই যুদ্ধে বিজয়ের কোন বিকল্প নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় শপথ না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
সাঈদ খোকন বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন- সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। সেই সাড়ে ৭ কোটি আজ ১৬ কোটি হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকে তবে কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
IMG2
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাফর আহম্মেদ রানার পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন-যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহা. বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সহসভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, সোহরাব হোসেন স্বপন, সরোয়ার হোসেন মনা, হারুন অর রশিদ, মাহবুবুর রহমান পলাশ, মোরসালিন আহম্মেদ, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু, মাকসুদুর রহমান, কাজী ইব্রাহীম খলিল মারুফ, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আরমান হক বাবু, এমদাদুল হক, খন্দকার আরিফুজ্জামান প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এমআই
