রামগঞ্জে যৌতুকের বলি হলেন গৃহবধূ মৌসুমী

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৩
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার শৈরশৈই গ্রামের দাই বাড়িতে যৌতুকের জন্য নির্যাতিত মৌসুমি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ১২টায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ঘাতক স্বামী ইমাম হোসেনের ফাঁসির দাবি রামগঞ্জ উপজেলাসহ দেশ-বিদেশে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। মৌসুমির চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পিতা বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানা লিখিত অভিযোগ করেছেন।
 
সূত্র জানায়, উপজেলার শৈরশৈই গ্রামের আবুল কালামের মাদকাসক্ত ছেলে ইমাম হোসেন চলতি মাসের ৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে মাদকাসক্ত অবস্থায় বসতঘরে প্রবেশ করে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় মৌসুমিকে স্টিলের টর্চ লাইট দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। ওই সময়ে মৌসুমির মাথা ফেঁটে রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মারাত্মক আহত অবস্থায় শ্বশুর আবুল কালাম, স্বামী ইমাম হোসেন তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসাপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার কুমিল্লা হাসপাতালে রেফার করে। সেখানে ডাক্তার অপরাগতা দেখালে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি করে ঘাতক স্বামী ও শ্বশুর আবুল কালাম পালিয়ে যায়।
 
মৌসুমিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তির সংবাদ পেয়ে মৌসুমির স্বজনেরা মেডিকেলে ছুটে যায়। চিকিৎসার ১২দিনের মধ্যে বুধবার রাতে মৌসুমি মারা যান। 
 
মৌসুমির বাবা ছিদ্দিক মিয়া জানান তিনি একজন দিনমজুর। উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ঔষধের অভাবে মৌসুমির মৃত্যু হয়। মৌসুমির চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শ্বশুর আবুল কালামকে একাধিকবার চেয়ারম্যান, মেম্বারের মাধ্যমে অনুরোধ করেও মৌসুমিকে চিকিৎসা খরচ দেয়নি কিংবা দেখতে যায়নি।
 
উল্লেখ্য, মৌসুকে দুই বছর আগে ইমাম হোসেন বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে ইমাম যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল মৌসুমীকে। তাদের একটি শিশু পুত্র রয়েছে।
 
থানার ওসি তোতা মিয়া জানান, উক্ত ঘটনায় পুলিশ ঘাতকের বাড়ি গিয়ে কাউকে পায়নি।  তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু