অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির বীজ একাত্তরেই বপন করা হয়েছিল: আতিউর রহমান

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৫০
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ব্যাপকভিত্তিক সাম্য প্রতিষ্ঠার তীব্র আকাক্সক্ষা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। জনগণের এই আশা-আকাঙ্ক্ষা সবচেয়ে গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আর তাই সংবিধানের মূলনীতিতে এই স্বপ্নের স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
 
এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং ইউকেএইডের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলে। প্ল্যানিং কমিশনের মেম্বার জিইডি ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-এশিয়া ফাউন্ডেশনের মিস সারা টেইলর, ইউকেএইডের মি. পিটার ডি সৌজা, সিপিডির পক্ষ থেকে অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান এবং ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অধ্যাপক সেলিম রায়হান, অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ, এবং অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শাহীন আনাম।
 
ড. আতিউর বলেন যে, অতীতে কিছু অনাকাক্সিক্ষত প্রতিবন্ধকতা থাকলেও, গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনায় ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন ভাবনাই মূল জায়গায় রয়েছে। আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের চেষ্টা চালিয়েছি, কিন্তু পাশাপাশি নজর রেখেছি অন্তর্ভূক্তিমূলক অগ্রযাত্রার দিকে। নিজেদের সংস্কৃতির প্রতি যেমন শ্রদ্ধাশীল থেকেছি, তেমনি নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগেও পিছপা হইনি। সর্বোপরি আমরা আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের পাশপাশি বেসরকারি খাতের সাথে একসঙ্গে কাজ করেছি।
 
এই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার এলাকায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে বলেছেন ড. আতিউর। তিনি বলেন যে, এক্ষেত্রে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সাথে সাথে বিনিয়োগকারীদের সুবিধা দেয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমনের ফলে ঐ এলাকায় সার্বিক পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।
 
তাঁর মতে আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই ঝুঁকিটিকে বিবেচনায় রাখতে হবে। পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, এক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকরা পরিবেশবান্ধব সেবা খাত ও অবকাঠামো যেমন হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, হাঁটার পথ ইত্যাদি গড়ে তোলার দিকে মনযোগ দিতে পারেন। পর্যটন কেন্দের সড়কগুলো যেন নিরাপদ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। পর্যটকরা যেন নিশ্চিন্তে পায়ে হেঁটে সমুদ্র সৈকতে যেতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও পর্যটকরা যে সব পথ ব্যবহার করেন সেগুলোতে যেন যথাযথ পানি-নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
 
ড. আতিউর কক্সবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরাকরি কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/কেআই