জামালপুরে বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের অবরোধ, পুলিশ-শ্রমিক সংর্ঘষে আহত ১৫

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ২২:৫৫

জামালপুরের সরিষাবাড়িতে বন্ধ আলহাজ জুট মিল চালু করা এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে রাস্তায় অবরোধ করেছে জুট মিলের শ্রমিকরা। এ সময় গাছের গুঁড়ি ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। অবরোধ চলাকালে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ৫ পুলিশসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল তাসলিমা ও নারী শ্রমিক জাহানারা বেগমকে সরিষাবাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকালে আলহাজ্ব জুট মিলের কয়েকশত শ্রমিক মিল চালু ও বকেয়া বেতনের দাবিতে মিল গেইটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-ভুঞাপুর সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ অবরোধকারীদের সড়ক থেকে ওঠানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
IMG0
সরিষাবাড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মহব্বত কবির ঘটনার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, প্রায় ৩ ঘন্টার মতো সড়ক অবরোধ শেষে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংর্ঘষ হয়। এ সময় নারী কনস্টেবল তসলিমাসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে আলহাজ জুটমিল শ্রমিক ইউনিয়ন(সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, আলহাজ জুট মিলটি ২ হাজার ৮শত ৩০ জন শ্রমিক কর্মচারী-কর্মকর্তা কাজ করে আসছিল। পূর্ব ঘোষণ ছাড়াই আলহাজ্ব জুট মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা না দিয়ে গত ২১ জুলাই হঠাৎ মিল বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ে। ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের জন্য মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলে মালিক পক্ষের লোকজন বেতন পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের ডাক দেয়।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ মিলটি বন্ধ ঘোষণা করলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

তিনি উল্লেখ করেন, তিনিসহ এ বিষয় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি বারবার মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন সাড়া পাননি। এ কারণে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

ইত্তেফাক/নূহু