নাগেশ্বরীতে ভিজিএফের ৪৫০ বস্তা চাল জব্দ, ৫ গুদাম সিলগালা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫৪
নাগেশ্বরীতে বৃহস্পতিবার ভিজিএফের ৪৫০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। এদিকে চাল রাখার দায়ে ৫টি গুদাম সিলগালা করেছে প্রশাসন। সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
 
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় পরিবার প্রতি ২০ (বিশ) কেজি হারে বিনামূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নে ২ হাজার ৯শত বস্তায় ৮৯.৪৮০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এ চাল ৪৪৭৪টি স্লিপে বিতরণের কথা। ১৪ ও ১৬ আগস্ট তা বিতরণ করা হয়।
 
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা বৃহস্পতিবার চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে কালীগঞ্জ বাজারে একই ইউনিয়নের কুমড়িয়াপাড়ের আশরাফ আলীর ছেলে জামাল উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১৫০ বস্তা, কেরানীপাড়া গ্রামের মশিয়তুল্লাহর ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য হবিবর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০০ বস্তা, তার ভাই আবু বক্করের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০০ বস্তা, শালমারা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে জাকারিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৫০ বস্তা ও মন্নেয়ারপাড় গ্রামের হুজুর আলীর ছেলে মোহসীন আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৫০ বস্তা ভিজিএফের চাল মজুদ দেখতে পান।
 
তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তা শনাক্ত করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদাম সিলগালা করে কালীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ব্যাপারী ও সচিব জাকির হোসেন এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ চন্দ্র রায়ের জিম্মায় রাখেন। বৃহস্পতিবার রাতেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা বাদী হয়ে সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই ৫ জন ব্যবসায়ীসহ অজ্ঞাতনামা সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আসামি করে মামলা করেন।
 
ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ব্যাপারী জানান, তিনি ১০ ও ১১ আগস্ট সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করেন। ১৪ আগস্ট থেকে তা বিতরণ শুরু করা হয়। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সব চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে কালিগঞ্জ বাজারে ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে ভিজিএফের চাল থাকার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা বলেন, আমি বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে দেখি কালীগঞ্জ বাজারে জনৈক জামাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একাধিক অপরিচিত ব্যক্তি ভিজিএফের চালের বস্তা রাখছেন। তাদের জিজ্ঞেস করতেই তারা সরে পরেন। পালিয়ে যান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
 
পরে এলাকাবাসীর তথ্যমতে একই বাজারের অপর চাল ব্যবসায়ী হবিবর, বক্কর, জাকারিয়া, মোহসীন আলীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে গেলে আমার উপস্থিতি টের পেয়ে তারা একইভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি নজরদারীতে রাখতে বলেন। দুপুরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালা ভেঙ্গে ভিজিএফের চালের বস্তা দেখতে পেয়ে উক্ত গুদামগুলো সিলগালা করেন। পরে মামলা করা হয়।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, আমি খবর পেয়ে সরেজমিনে ৫ জন ব্যবসায়ীর গুদামে সাড়ে ৪শ বস্তা ভিজিএফের চাল দেখতে পাই এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করে দেই।
 
ওসি জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, এটি দুদকের তালিকাভুক্ত মামলা হওয়ায় সংশ্লিস্ট দফতরে তা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি