শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করায় যশোরের অভয়নগর থানার পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু ওসির বিরুদ্ধে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের যশোর পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। কর্মকর্তারা হলেন এসআই গিয়াস উদ্দিন, এ এস আই আয়নাল, এ এস আই শামসুজ্জামান, এ এস আই তবিবুর রহমান, এ এস আই কাজী শাহ আলম।
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কি অভিযোগে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে তা তিনি বলতে চাননি।
জানা গেছে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মাদক তালিকাভুক্ত ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির নিকট ১২ লাখ টাকা দাবি করায় ওই পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত বুধবার (১৫/০৮/১৮) রাতে অভয়নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ গিয়াস উদ্দিন এবং সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মোঃ শামসুজ্জামান উপজেলার বুইকরা গ্রামের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীকে (৩০) গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাকে থানায় রেখে বেদম প্রহার করা হয়। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
মোহাম্মাদ আলীর বোন জোহরা খাতুন জানান, মোহাম্মাদ আলী চট্টগ্রামে ট্রাকে হেলপারি করেন। তার নামে তিনটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি বাড়িতে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে ছয়জন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই রাতে থানায় যেয়ে তাকে আমরা পাইনি। রাত ১১টায় তাকে থানায় আনা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার আমরা ওসি এবং এসআই গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করি। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে আদালতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে থানা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তার সঙ্গে আরো একজন আসামি ছিল। পুলিশ ওই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে। কিন্তু মোহাম্মাদ আলীকে আদালতে সোপর্দ করেনি।
তিনি জানান, মোহাম্মদ আলীকে বৃহস্পতিবার রাতে আবার থানায় ফিরিয়ে আনে। এরপর থানা ভবনের দোতলায় একটি ঘরে আটকে রেখে বেদম মারা হয়। এ সময় তাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। তাকে ক্রসফায়ার থেকে বাঁচাতে পুলিশ আমাদের কাছে ১২ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা গরিব মানুষ। এতো টাকা কোথায় পাবো। শুক্রবার সকালে থানায় যেয়ে আহত অবস্থায় আমার ভাই মোহাম্মাদ আলীকে দেখেছি।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী বলেন, ‘অভয়নগর থানার পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার কথা। তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না- এই মুহূর্তে ঠিক বলতে পারছি না।' তিনি অভয়নগর থানার ওসিকে ফোন করতে বলেন।
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া বলেন 'উপজেলার বুইকরা গ্রামের মোহাম্মদ আলীকে বৃহস্পতিবার রাতে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে একটি সুটারগান, একরাউন্ড গুলি ও ৫০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার নামে ৩টি মামলার ওয়ারেন্ট ছাড়াও ৩টি মাদক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক মামলা হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে তা তিনি বলতে চাননি তবে তিনি বলেন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।'
উল্লেখ্য, সারা দেশে মাদক ব্যবসা বন্ধ হলেও অভয়নগরে থানা পুলিশের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে দেদারছে মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, শীর্ষ তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে ইতোপূর্বে মোটা অংকের টাকার বিনিময় ছেড়ে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
